প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫৮ পিএম

মানুষের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হৃদযন্ত্র। নানা অনিয়ম ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের কারণে দিন দিন হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ছে। হৃদরোগ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি এবং হৃদস্বাস্থ্য রক্ষায় উৎসাহিত করতে প্রতিবছর ২৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ব হার্ট দিবস পালন করা হয়। আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে।
হৃদরোগ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম প্রধান স্বাস্থ্যঝুঁকি। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল, ধূমপান, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে সচেতন জীবনযাপন ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে এসব ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশনের (আইএইচএমই) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর নতুন করে হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন প্রায় ৯ লাখ ৯২ হাজার ৭৩৬ জন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও বিভিন্ন গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিবছর হৃদরোগে মারা যান দুই লাখের বেশি মানুষ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে নিয়মিত শরীরচর্চা, সুষম ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত ঘুম গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্যতালিকায় অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও অস্বাস্থ্যকর চর্বির পরিমাণ কমিয়ে শাকসবজি, ফলমূলসহ পুষ্টিকর খাবার বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ধূমপান পরিহার করাও হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
যাদের হৃদরোগের ঝুঁকি রয়েছে, তাদের নিয়মিত রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের মাত্রা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। বুকে চাপ বা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক ঘাম কিংবা হঠাৎ দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
বিশ্ব হার্ট দিবসের মূল উদ্দেশ্য শুধু একটি নির্দিষ্ট দিনে সচেতনতা তৈরি করা নয়, বরং হৃদরোগ প্রতিরোধে সারা বছর স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে মানুষকে উৎসাহিত করা। খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম এবং ক্ষতিকর অভ্যাস পরিহারের মাধ্যমে হৃদরোগের ঝুঁকি কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি