
সন্ধ্যা নামলেই বিভিন্ন স্থানে কিশোরদের দলবদ্ধ আড্ডা। কোথাও ক্যারাম খেলা, কোথাও অযথা ঘোরাঘুরি। এসব আড্ডাকে কেন্দ্র করে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় বান্দরবানের আলীকদমে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে থানা পুলিশ। অভিযানে বিভিন্ন স্থান থেকে ১৯ কিশোরকে থানায় নেওয়া হয়। পরে অভিভাবকদের উপস্থিতিতে সতর্ক করে এবং ভবিষ্যতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে না জড়ানোর মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চম্পটপাড়া, প্রভাত কারবারিপাড়া, হাফেজের দোকান, আলীবাজার, চিনারী দোকান, আবাসিক, রেফারপাড়া বাজার ও চৈক্ষ্যং রাস্তার মাথাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। আলীকদম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহেদ পারভেজের নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক দল এতে অংশ নেয়।
পুলিশের ভাষ্য, অভিযানের সময় বিভিন্ন স্থানে আড্ডারত, অপ্রয়োজনে ঘোরাফেরা এবং ক্যারাম খেলায় ব্যস্ত কিশোরদের সতর্কতামূলকভাবে থানায় নেওয়া হয়। কিশোররা যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার আগেই সতর্ক হয় এবং বিষয়টি অভিভাবকদের জানানো যায়—অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল এটি।
অভিযানের পর আটক কিশোরদের অভিভাবকদের থানায় ডেকে আনা হয়। এ সময় স্থানীয় বিএনপির সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালামসহ আরও কয়েকজন নেতা থানায় উপস্থিত ছিলেন। ওসি শাহেদ পারভেজ অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং কিশোরদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও অপরাধ থেকে দূরে রাখার বিষয়ে পরামর্শ দেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে অভিভাবকদের সন্তানদের চলাফেরা, বন্ধুমহল এবং রাতে বাইরে অবস্থানের বিষয়ে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মাদক বা কোনো অপরাধী চক্রের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়।
পুলিশ বলছে, কৈশোরে বন্ধুদের প্রভাব কিংবা অসতর্কতার কারণে অনেকেই ধীরে ধীরে অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে পারে। তাই অপরাধ সংঘটনের পর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি শুরুতেই কিশোরদের সতর্ক করা এবং পরিবারকে সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আলীকদম থানার ওসি মো. শাহেদ পারভেজ বলেন, কিশোররা যাতে মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। কিশোরদের পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ী ও অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধেও নজরদারি চলছে। মাদক ও কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিভাবকরাও পুলিশের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, কিশোরদের ভুল পথে যাওয়ার আগেই সতর্ক করা গেলে ভবিষ্যতে অপরাধপ্রবণতা কমানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে পরিবার, পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—সবার সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ১৯ কিশোরের কাছ থেকে ভবিষ্যতে সদাচরণ এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে না জড়ানোর মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। পরে তাদের নিজ নিজ অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। অভিযানে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়ে পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি