
যারা দেশে গণহত্যা চালিয়েছে এবং মানুষের ওপর গুলি চালিয়েছে, তাদের প্রত্যেকের বিচার করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) চালু আছে এবং থাকবে। প্রয়োজনে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।
শনিবার রাজধানীর ধোলাইখালে মেয়র সাদেক হোসেন খোকা মাঠে ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে’ বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘যারা এ দেশে গণহত্যা চালিয়েছে, মানুষের বুকে গুলি চালিয়েছে, তাদের কোনো ক্ষমা নেই। প্রত্যেকের বিচার করা হবে।’
তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে যারা বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে, তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। বিনা ভোটে দেশ পরিচালনা এবং গণতন্ত্রকে সিস্টেমেটিক্যালি হত্যা করার মাধ্যমে একটি সরকার পৃথিবীর বুকে লজ্জাজনক ইতিহাস রচনা করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর দেশের মানুষ সবচেয়ে বর্বর হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। সেই বাহিনী ও ফ্যাসিবাদী শক্তিকে বাংলাদেশের মাটিতে আর কোনোদিন রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।
শেখ হাসিনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্ত হয়ে নিয়মিত জুম মিটিং করছে এবং নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করছে। তারা বলছে, ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন। ‘আমরা চাই তিনি দেশে ফিরুন এবং বিচারের মুখোমুখি হোন’—বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাবর্তনের অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে ভারত সরকার এখনো এর কোনো জবাব দেয়নি। মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত আসামি ও তার সহযোগীদের ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে তাদের বিচার হয়েছে। প্রয়োজনে তারা আপিলের সুযোগ চাইলে সেই সুযোগ দেওয়া হবে এবং দেশে ফিরে সুষ্ঠু ন্যায়বিচার সম্পন্ন করা হবে।
সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এরই মধ্যে যারা সরকার পতনের এক দফার ঘোষণা দিচ্ছেন, তাদের কর্মকাণ্ড নিয়েও জনগণকে ভাবতে হবে। বিএনপি ও আন্দোলনের সহযোগীরা বসে বসে এসব কর্মকাণ্ড দেখবে—এমনটি ভাবার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, বিএনপি দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে চায়, গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে চায় এবং সাংবিধানিক পরিবর্তন আনতে চায়, যাতে ভবিষ্যতে দেশে কোনোদিন ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের উত্থান না ঘটে।
সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নেওয়ার জন্য সরকার সবাইকে আহ্বান জানিয়েছিল বলেও জানান তিনি। কিন্তু তারা সেখানে অংশ না নিয়ে রাস্তায় নেমেছে এবং লং মার্চ করেছে। একবার উত্তরে, আবার দক্ষিণে লং মার্চ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামনে পূর্ব ও পশ্চিমেও লংমার্চ করার কথা শোনা যাচ্ছে।
জ্বালানি তেলের দাম প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কথা বলা হলেও সারা বিশ্বে জ্বালানি তেলের দাম কতটা বেড়েছে, তা বলা হচ্ছে না। বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রসহ বিশ্বের অনেক দেশে বাংলাদেশের তুলনায় জ্বালানি তেলের দাম দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বেড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, জনগণের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে বিএনপির নেতা তারেক রহমান এক মাস পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম বাড়াননি। পরে সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি তেল পাচার এবং আন্তর্জাতিক দরের সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সীমিত পরিমাণে দাম বাড়ানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, এরপরও দ্রব্যমূল্যের স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। তবে গালফ ওয়ারের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় দেশে কিছুটা দাম বাড়াতে হয়েছে। এতে জনগণের কিছুটা দুর্ভোগ হওয়ায় সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলে তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশেও জ্বালানি তেলের দাম কমানো হবে বলেও জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এটি সরকারের প্রতিশ্রুতি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ