
ব্যবহারকারীদের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য প্রক্রিয়াকরণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের গোপনীয়তা নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগলকে ৪০৩ মিলিয়ন ইউরো, যা প্রায় ৪৬৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান, জরিমানা করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে আয়ারল্যান্ডের ডেটা প্রোটেকশন কমিশন (ডিপিসি)।
ডিপিসির তদন্তে উঠে এসেছে, ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে গুগল ইউরোপীয় ইউনিয়নের জেনারেল ডেটা প্রোটেকশন রেগুলেশন (জিডিপিআর) লঙ্ঘন করেছে। বিশেষ করে ‘ওয়েব অ্যান্ড অ্যাপ অ্যাক্টিভিটি’, ‘লোকেশন হিস্ট্রি’ ও ‘লোকেশন অ্যাকিউরেসি’—এই তিনটি ফিচারের তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে সমস্যা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
ইউরোপে গুগলসহ বেশ কয়েকটি বড় মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধান তদারকি কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করে আয়ারল্যান্ডের ডিপিসি। ২০১৮ সালে জিডিপিআর কার্যকর হওয়ার পর বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সংস্থাটি ৪ বিলিয়ন ইউরোর বেশি জরিমানা করেছে। গুগলের বিরুদ্ধে এবারের জরিমানাটি ডিপিসির আরোপ করা চতুর্থ বৃহত্তম জরিমানা।
জরিমানার পাশাপাশি গুগলকে ছয় মাসের মধ্যে তাদের তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থা জিডিপিআরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি প্রতিষ্ঠানটি।
ডিপিসির উপকমিশনার গ্রাহাম ডয়েল বলেন, গুগলের তথ্য ব্যবস্থাপনার কারণে অনেক ব্যবহারকারী হয়তো জানতেন না যে তাদের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য বিজ্ঞাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ বা তাদের আগ্রহ সম্পর্কে ধারণা তৈরিতে ব্যবহার করা হতে পারে। এতে ব্যক্তিগত তথ্যের ওপর ব্যবহারকারীদের নিয়ন্ত্রণ কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় দীর্ঘ সময় ব্যবহারকারীদের লোকেশন তথ্য সংরক্ষণ করায় এই ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
যেভাবে শুরু হয় তদন্ত
২০২০ সালে ইউরোপের বিভিন্ন ভোক্তা অধিকার সংগঠনের অভিযোগের ভিত্তিতে গুগলের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে ডিপিসি। অভিযোগকারী সংগঠনগুলোর মধ্যে ইউরোপজুড়ে কার্যক্রম পরিচালনাকারী ভোক্তা সংগঠন বিইইউসিও ছিল।
তদন্তে গুগলের ‘ওয়েব অ্যান্ড অ্যাপ অ্যাক্টিভিটি’ ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবহারের বৈধতা এবং ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এই ফিচারটি গুগলের বিভিন্ন সেবায় ব্যবহারকারীদের কার্যক্রমসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করে।
অন্যদিকে, ‘লোকেশন হিস্ট্রি’ ফিচারের মাধ্যমে মোবাইল ডিভাইস ব্যবহার করে ব্যবহারকারীর অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করা হয়।
ডিপিসি জানিয়েছে, গুগলের বিরুদ্ধে আরও তিনটি পৃথক তদন্ত চলছে এবং সেগুলোও অগ্রসর পর্যায়ে রয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ