
সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলোর সঙ্গে টানাপোড়েনের মধ্যেই ‘ট্রাম্প টিভি’ নামে নিজস্ব সম্প্রচার কার্যক্রম চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস। হোয়াইট হাউসের ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। খবর ফোর্বসের।
হোয়াইট হাউসের ইউটিউব চ্যানেলের বিবরণে বলা হয়েছে, ‘ট্রাম্প টিভি’তে ট্রাম্পের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য, শীর্ষ ভিডিও এবং নির্বাচিত বিভিন্ন দৃশ্য ২৪ ঘণ্টা সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এসব কনটেন্ট তাৎক্ষণিকভাবে হালনাগাদ করার কথাও জানানো হয়েছে।
পুরোনো বক্তব্য দিয়ে শুরু সম্প্রচার
‘ট্রাম্প টিভি: দ্য এসেনশিয়ালস স্টেশন’ শিরোনামে প্রথম সম্প্রচারে গত ৩ জুলাই মাউন্ট রাশমোরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া বক্তব্য দেখানো হয়।
এরপর ট্রাম্পের ২০২৫ সালের অভিষেক অনুষ্ঠানের পুরোনো সম্প্রচার দেখানো শুরু হয়। এতে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নতুন এই সম্প্রচার কার্যক্রমে ট্রাম্পের বিভিন্ন পুরোনো বক্তব্য, অনুষ্ঠান ও ভিডিও প্রচার করা হবে।
তবে হোয়াইট হাউসের ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে বর্তমান ঘটনাগুলোও নিয়মিত সরাসরি সম্প্রচার করা হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। যদিও ‘ট্রাম্প টিভি’র লাইভ সম্প্রচারে দর্শকদের তথ্য জানতে এবং হালনাগাদ থাকতে আহ্বান জানানো হচ্ছে।
সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিয়ে বিতর্ক
‘ট্রাম্প টিভি’ চালুর আগে সপ্তাহান্তে তিনটি সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক ও ফটোগ্রাফারদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেন ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেন, এসব সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর পর হোয়াইট হাউসের টেলিভিশন পুলে থাকা সিবিএস, এনবিসি, এবিসি, সিএনএন ও ফক্স জানিয়েছে, সোমবার তারা ট্রাম্পের কার্যক্রম কাভার করবে না।
ফলে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক এবং হোয়াইট হাউসে নতুন হেলিপ্যাড উদ্বোধনের অনুষ্ঠানও এসব সংবাদমাধ্যম কাভার করেনি।
হেলিপ্যাড উদ্বোধনের সম্প্রচারে ছিল না শব্দ
হোয়াইট হাউসে নতুন হেলিপ্যাড উদ্বোধনের অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হলেও সেখানে কোনো শব্দ ছিল না। কারণ অনুষ্ঠানে টেলিভিশন পুলের বুম মাইক্রোফোন ছিল না।
এদিকে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার পুনর্বহালের দাবিতে সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাও আদালতে মামলা করেছে।
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সংঘাতের অভিযোগ
সম্প্রতি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতা ও তার ওপর প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে আলোচনায় আসা হোয়াইট হাউসের সহযোগী নাটালি হার্প নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ট্রাম্পকে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত নেতিবাচক প্রতিবেদনগুলোর ভিডিও দেখিয়েছিলেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
এর আগেও ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের বিরোধ দেখা গেছে। গত বছর অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। মেক্সিকো উপসাগরের নাম ট্রাম্প প্রশাসনের দেওয়া ‘গালফ অব আমেরিকা’ হিসেবে ব্যবহার না করার কারণে এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
পরে একটি জেলা আদালতের বিচারক সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেও আপিল আদালত মূলত তা পুনর্বহাল করে। বিষয়টি নিয়ে এপি এখনো আদালতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
এ ছাড়া প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে ট্রাম্পের বন্ধুত্ব নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক সাংবাদিকের এয়ার ফোর্স ওয়ানে ভ্রমণের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।
প্রথম সংশোধনী নিয়ে বিতর্ক
সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসের কার্যক্রম ও সরকারি সফর থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, এ ধরনের পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে সুরক্ষিত সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী সরকারি সেন্সরশিপ ছাড়াই সংবাদমাধ্যমের তথ্য ও মতামত প্রকাশের অধিকারের সুরক্ষা দেয়। ফলে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার এবং সরকারের নিজস্ব সম্প্রচারব্যবস্থার বিস্তার—দুটি বিষয়ই বর্তমানে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সরকারি তথ্যপ্রচারের পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি