গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ: ট্রাম্প-ডেনমার্ক চুক্তির আদ্যোপান্ত
প্রকাশ: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৪৯ পিএম

দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে পৌঁছানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই চুক্তির মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্র ‘স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ’ ও প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করার পূর্ণ সক্ষমতা পাবে। অন্যদিকে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চুক্তিটি তাদের সার্বভৌমত্ব ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে পূর্ণ স্বীকৃতি দেয়। আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।
চুক্তির প্রধান বিষয়বস্তুসমূহ
সামরিক উপস্থিতি ও সম্প্রসারণ: গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি, ঘাঁটি স্থাপন এবং প্রবেশাধিকার আরও স্থায়ী ভিত্তিতে নিশ্চিত করার সুযোগ থাকছে এই চুক্তিতে। ১৯৫১ সালের পুরোনো প্রতিরক্ষা চুক্তির (যেমন: পিটুফিক স্পেস বেস) পরিধি বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও কৌশলগত সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের প্রবেশে বাধা: চুক্তি অনুযায়ী, ন্যাটোর বাইরের কোনো দেশ বা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলো (যেমন: রাশিয়া ও চীন) গ্রিনল্যান্ডে কোনো ধরনের সামরিক ঘাঁটি স্থাপন বা সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে পারবে না।
সংবেদনশীল খাতে বিনিয়োগ নিয়ন্ত্রণ: যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সংবেদনশীল বিবেচিত খাতগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর বিনিয়োগ সীমিত বা নিষিদ্ধ করার বিধান রাখা হয়েছে।
স্বাধীনতার পরও কার্যকারিতা: গ্রিনল্যান্ড ভবিষ্যতে ডেনমার্ক থেকে রাজনৈতিকভাবে স্বাধীন হলেও এই নিরাপত্তা চুক্তি বহাল থাকবে—এমন ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
ট্রাম্পের আগ্রহ এবং ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
আর্কটিক অঞ্চলের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান, উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের মধ্যবর্তী সংযোগস্থল এবং আধুনিক প্রযুক্তি যেমন বৈদ্যুতিক গাড়ি ও মোবাইল তৈরিতে অপরিহার্য ‘বিরল খনিজের’ (Rare Earth Minerals) বিশাল ভাণ্ডারের কারণে গ্রিনল্যান্ড সবসময় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলা করতেই ট্রাম্প প্রশাসন এই অঞ্চল নিজেদের নিরাপত্তাবলয়ের মধ্যে নিয়ে আসতে দীর্ঘদিন ধরে জোরালো ভূমিকা পালন করে আসছে।
ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের অবস্থান
ট্রাম্প একে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হিসেবে দাবি করলেও, ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট্টে ফ্রেডেরিকসেন এবং গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিয়েলসেন জানিয়েছেন যে, এই চুক্তি দ্বীপটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করছে না; বরং ডেনমার্ক রাজ্যের সার্বভৌমত্ব ও গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার বহাল রেখেই যৌথ নিরাপত্তা জোরদার করবে। কার্যকর হওয়ার আগে চুক্তিটিকে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের প্রয়োজনীয় সংসদীয় প্রক্রিয়া পার হতে হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি