
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন খাতটির শীর্ষ কর্মকর্তারা। এরপর সোমবার বিশ্বজুড়ে এআই-সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। এআই প্রযুক্তির সম্ভাব্য ভয়াবহ ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় খাতটির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থাতেও চাপ তৈরি হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই অবকাঠামোতে বিপুল বিনিয়োগের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ব শেয়ারবাজারের ঊর্ধ্বগতিতে বড় ভূমিকা রেখেছে প্রযুক্তি খাত। তবে এখন কোম্পানিগুলোর উচ্চাভিলাষী বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে ঋণ ও পারস্পরিক অর্থায়নের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। একই সময়ে বিশ্বজুড়ে ঋণের খরচও বাড়ছে, যা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বড় বিনিয়োগ পরিকল্পনায় বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
এর আগে শনিবার এক দীর্ঘ প্রবন্ধে এআই কোম্পানিগুলোকে তাদের মডেলের সক্ষমতা বাড়ানোর গতি কমানোর আহ্বান জানান অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোডেই। এআই প্রযুক্তির অপব্যবহারের আশঙ্কা বাড়তে থাকায় তিনি এ আহ্বান জানান।
আমোডেইয়ের প্রস্তাবকে সমর্থন করেছেন এক্সএআইয়ের প্রধান ইলন মাস্ক এবং ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান। অল্টম্যান আরও জানিয়েছেন, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে চলতি বছর ওপেনএআই শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে না।
চিপ কোম্পানির শেয়ারে বড় পতন
এআই খাতের উত্থানের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি চিপ কোম্পানিগুলোর শেয়ারে সোমবার সবচেয়ে বড় পতন দেখা গেছে। ওয়াল স্ট্রিটে প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক-১০০ সূচক দিনের শুরুতে ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে ছয় সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। পরে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও দিন শেষে সূচকটি প্রায় ০ দশমিক ৪ শতাংশ নিচে ছিল।
ইন্টারঅ্যাকটিভ ব্রোকার্সের প্রধান বাজার বিশ্লেষক স্টিভ সসনিক বলেন, এআই খাতে ব্যয়ের গতি কমানো বা বিনিয়োগ পরিকল্পনা নতুন করে ভাবার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে এর প্রভাব অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খাতেও পড়তে পারে। তার মতে, এআই খাতে ব্যয় বৃদ্ধির ওপর ভর করেই সাম্প্রতিক সময়ে বাজার ও অর্থনীতির একটি বড় অংশ দ্রুত এগিয়েছে।
সোমবার ফিলাডেলফিয়া সেমিকন্ডাক্টর সূচক ৫ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। এআই চিপ নির্মাতা এনভিডিয়ার শেয়ার ৩ শতাংশ, অ্যাডভান্সড মাইক্রো ডিভাইসেসের ৪ দশমিক ৫ শতাংশ এবং মাইক্রনের শেয়ার ৫ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে।
সেমিকন্ডাক্টর সরঞ্জাম নির্মাতা ল্যাম রিসার্চ ও অ্যাপ্লাইড ম্যাটেরিয়ালস এবং প্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠান ব্লুম এনার্জির শেয়ারও ৬ শতাংশের বেশি কমেছে।
ইউরোপ-এশিয়ার প্রযুক্তি বাজারেও ধাক্কা
শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারেও প্রযুক্তি শেয়ারে বড় পতন হয়েছে। দিনের শুরুতে ইউরোপের প্রযুক্তি খাতের সূচক ২ দশমিক ২ শতাংশ কমে যায়। এর মধ্যে চিপ সরঞ্জাম নির্মাতা এএসএমএলের শেয়ার ৬ শতাংশ পড়ে যায়। ইনফিনিয়ন ও সিমেন্স এনার্জির শেয়ারেও বড় দরপতন দেখা যায়।
এশিয়ার বাজারে সফটব্যাংকের শেয়ার ১০ শতাংশের বেশি কমেছে। চিপ নির্মাতা তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি (টিএসএমসি) ও এসকে হাইনিক্সের শেয়ারও দর হারিয়েছে।
এআই প্রযুক্তির সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক সতর্কবার্তার ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এখন শুধু প্রযুক্তিটির ভবিষ্যৎ নয়, এ খাতে বিপুল ব্যয়ের স্থায়িত্ব নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এআই অবকাঠামোতে চলমান বিপুল বিনিয়োগ কতটা টেকসই হবে এবং এর অর্থনৈতিক ঝুঁকি কতটা—সেটিই এখন বাজারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি