প্রকাশ: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম

বিশ্ববাজারে টানা চতুর্থ দিনের মতো বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর প্রভাবে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রিনিচ মান সময় বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টা ১ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৫৭ ডলার বা ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৯৯ দশমিক ৪৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও ১ দশমিক ৬০ ডলার বা ১ দশমিক ৭২ শতাংশ বেড়েছে। ফলে প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআইয়ের দাম দাঁড়িয়েছে ৯৪ দশমিক ৬৩ ডলারে।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের তীব্রতা বাড়ার মধ্যেই তেলের বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা ও সম্পদ লক্ষ্য করে নতুন করে হামলা চালানোর পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের উদ্বেগের বড় কারণ হলো তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা। দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধ চলতে থাকলে তেল উৎপাদন ও পরিবহন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ ও জ্বালানি অবকাঠামো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকট আরও গভীর হতে পারে।
গত ছয় মাসের যুদ্ধের স্থায়ী সমাধানের সম্ভাবনা ক্রমেই কমে আসায় বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ায় বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে তেলের ভবিষ্যৎ সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের বাজারে।
তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে খুব শিগগিরই ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেলে বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে। জ্বালানি পরিবহন থেকে শুরু করে শিল্প উৎপাদন ও বিভিন্ন পণ্যের পরিবহন ব্যয় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে অনেক দেশে মূল্যস্ফীতির ওপরও নতুন করে চাপ তৈরি হতে পারে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি