প্রকাশ: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৮ পিএম

ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার ধাক্কা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি নেপাল। উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় এখনো চলছে উদ্ধার অভিযান। কাদা, পাথর ও ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার হচ্ছে মরদেহ। এর মধ্যেই দেশটিতে আঘাত হেনেছে ৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প।
ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার অব সিসমোলজি এবং ইউরোপীয় ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউরোপিয়ান মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজি সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় গতকাল রাত ৯টা ৩৮ মিনিটে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৪৩ কিলোমিটার গভীরে।
তবে ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত নেপালের কোনো এলাকা থেকে নতুন করে ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। কিন্তু ভয়াবহ বন্যায় যখন দেশটির একটি বড় অংশ বিপর্যস্ত, ঠিক সেই সময় এই ভূমিকম্প নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এর আগে গত ২৬ আগস্ট নেপালের উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী রাসুয়া এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। ভোতিকোশি ও এর শাখানদী লেহন্দে নদীর একটি ব্যারিয়ার হ্রদ ভেঙে পড়ার পর বিপুল পরিমাণ পানি নেমে আসে। পানির সঙ্গে নেমে আসে হাজার হাজার টন কাদা, পাথর ও নানা ধরনের ধ্বংসাবশেষ।
এই আকস্মিক বন্যার প্রভাব শুধু নেপালেই সীমাবদ্ধ ছিল না। সীমান্তের অপর পাশে তিব্বতের গিরং এলাকাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। লাখ লাখ ঘনমিটার পানি ও বিপুল পরিমাণ কাদা-পাথরের স্রোতে বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বন্যায় উত্তর ও মধ্য নেপালের বহু এলাকা কার্যত তছনছ হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাড়িঘর, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন অবকাঠামো। বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রও অকেজো হয়ে পড়েছে।
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে নিখোঁজদের নিয়ে। মঙ্গলবার পর্যন্ত নেপালের সেনাবাহিনী, পুলিশ ও দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তরের সমন্বিত উদ্ধারকারী দল ১ হাজার ৩৫৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। একই সঙ্গে এখনো ৫ হাজার ৩২৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যেই নতুন করে ভূমিকম্পের ঘটনা দুর্যোগকবলিত নেপালের মানুষের জন্য পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি