
ইরানের সঙ্গে নতুন করে পরমাণু চুক্তি নাও হতে পারে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এমন পরিস্থিতিতে তেহরান যাতে পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে না পারে, সে জন্য দেশটির পরমাণু সক্ষমতা ধ্বংসের ওপরই মনোযোগ থাকবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট।
রোববার এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাইট বলেন, ইরানে পরবর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভবিষ্যতে কোনো চুক্তি হতে পারে। তবে সেই চুক্তি আদৌ হবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর দেশটির নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। গত মাসেও তিনি ইরানের সঙ্গে নতুন পরমাণু চুক্তি নাও হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন। যদিও শুরুতে ইরানের সঙ্গে একটি পরমাণু চুক্তিতে পৌঁছানো ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে সামনে এসেছিল।
চুক্তি ছাড়াই ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা থেকে কীভাবে বিরত রাখা হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ক্রিস রাইট বলেন, ইরানের সেই সক্ষমতা ধ্বংসের অভিযান চালিয়ে যেতে হবে।
মার্কিন এই মন্ত্রী আরও দাবি করেন, ইরান ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য বড় ধরনের অবকাঠামো গড়ে তুলেছিল। বর্তমানে ইরান যে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে, সেগুলো ওই অবকাঠামোর মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছিল বলে তিনি জানান। তবে নতুন করে আরও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা বর্তমানে ইরানের নেই বলেও দাবি করেন রাইট।
সাক্ষাৎকারে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি নিয়েও কথা বলেন মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাত দিনের গড় হিসাবে বর্তমানে প্রতিদিন ৯০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন হচ্ছে। রাইটের দাবি, এটি হরমুজ দিয়ে তেল পরিবহনের সর্বোচ্চ গড়।
সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাইপলাইনের মাধ্যমে পরিবাহিত তেল হিসাবের মধ্যে ধরলে অঞ্চলটি থেকে প্রতিদিন মোট ১ কোটি ৩০ লাখ থেকে ১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল তেল বের হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন করে বেড়েছে। শনিবার ইরান দুটি মার্কিন নৌযানকে লক্ষ্য করার পর যুক্তরাষ্ট্র তিনটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে বলে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পরে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি তিনটি মার্কিন-সংশ্লিষ্ট জাহাজ এবং তিনটি তেলবাহী জাহাজে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে।
পরমাণু কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল—সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা এখন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুকে ঘিরে আরও জটিল হয়ে উঠছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি