
চট্টগ্রামের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, সংগীত ও খাদ্যসংস্কৃতিকে নতুনভাবে তুলে ধরতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘সিলন আমার শহর–চট্টগ্রাম’ মেগা ইভেন্ট। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের নেভি কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বন্দরনগরীর চেনা-অচেনা নানা গল্প উঠে আসে।
দেশের প্রতিটি শহরের নিজস্ব ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি ও খাবার রয়েছে। শহরের এসব বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মানুষের আবেগ ও স্মৃতির সম্পর্ককে সামনে আনতেই সিলন টি শুরু করেছে ‘সিলন আমার শহর’ ক্যাম্পেইন। এর প্রথম শহর হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে চট্টগ্রামকে।
মানুষের গল্পে উঠে এসেছে চট্টগ্রাম
ক্যাম্পেইনের শুরু থেকেই চট্টগ্রামের মানুষকে আয়োজনের অংশ করে নেওয়া হয়। শহরের ইতিহাস ও সংস্কৃতির বিভিন্ন অনুষঙ্গ নিয়ে বিশেষ নকশার সিলন টি প্যাকেজিং বাজারে আনার পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও নানা কার্যক্রম চালানো হয়।
‘আমার শহর’ ডিজিটাল কনটেস্টে চট্টগ্রামের মানুষকে নিজেদের প্রিয় শহরকে ঘিরে স্মৃতি, অভিজ্ঞতা ও গল্প শেয়ার করার আহ্বান জানানো হয়। অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে প্রতি সপ্তাহে ‘সাপ্তাহিক বিজয়ী’ নির্বাচন করা হয়। পরে লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত বিজয়ীদের মেগা ইভেন্টে দেওয়া হয় বিশেষ পুরস্কার।
ইতিহাস থেকে খাবার—সবই ছিল আয়োজনে
পুরোনো চট্টগ্রামের ইতিহাস, স্থাপত্য ও ঐতিহ্য থেকে শুরু করে বন্দর ও রেলওয়ের গল্প, স্থানীয় সংস্কৃতি, সংগীত ও জীবনযাপন—বিভিন্ন অভিজ্ঞতামূলক উপস্থাপনার মাধ্যমে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়।
চট্টগ্রামের খাদ্যসংস্কৃতিও ছিল আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ। মেজবান, বেলা বিস্কুট, চায়ের আড্ডাসহ স্থানীয় খাবার ও জীবনযাপনের নানা অনুষঙ্গের মধ্য দিয়ে তুলে ধরা হয় বন্দরনগরীর স্বতন্ত্র সংস্কৃতি। পাশাপাশি ছিল চট্টগ্রামের সংগীত ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নিয়ে বিশেষ পরিবেশনা।
অংশ নেন জনপ্রিয় শিল্পী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটররা
পঞ্চাশের বেশি অভিনয়শিল্পী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সাবিলা নূর, সামিরা খান মাহি, এসপি ক্রিয়েশন, রেজভি আহমেদ, বেংগলি বইন, সম্পদ ও জিসানসহ অনেকে। নিজেদের কনটেন্ট ও উপস্থিতির মাধ্যমে তাঁরা চট্টগ্রামের বিভিন্ন গল্প তুলে ধরেন।
ছয় বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা
অনুষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন ছিল ‘সিলন আমার শহর বিশেষ ব্যক্তিত্ব সম্মাননা’। চট্টগ্রামের পরিচয়, সংস্কৃতি ও সমাজকে সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ছয়জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
সম্মাননা পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন—
একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক ও দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক
একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক আবুল মোমেন
একুশে পদকপ্রাপ্ত নাট্যজন আহমেদ ইকবাল হায়দার
স্থপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদ জেরিনা হোসেন
নগর পরিকল্পনাবিদ দেলোয়ার হোসেন মজুমদার
লেখক ও গবেষক হারুন রশিদ
তাঁদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন আবুল খায়ের গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শহীদুল্লাহ চৌধুরী।
চট্টগ্রামকে দিয়ে শুরু হওয়া ‘সিলন আমার শহর’ ক্যাম্পেইনের প্রথম অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে এই মেগা ইভেন্টের মাধ্যমে। তবে আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এ যাত্রা এখানেই শেষ নয়। চট্টগ্রামের পর দেশের কোন শহর হবে ‘সিলন আমার শহর’-এর পরবর্তী গন্তব্য, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।
স্বদেশ প্রতিদিন/আরএম