প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৩১ পিএম আপডেট: ০৩.০৯.২০২৬ ২:৪২ PM

কওমি মাদ্রাসার ছয়টি শিক্ষা বোর্ডের সনদকে সরকারি-বেসরকারি মাদ্রাসার দুটি পদে নিয়োগের যোগ্যতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সহকারী মৌলভী (ক্বারী) ও ইবতেদায়ী ক্বারী পদে কওমি সনদধারীদের নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোর সমন্বয়, উন্নয়ন এবং পাবলিক পরীক্ষা গ্রহণের লক্ষ্যে ২০০৬ সালে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে ‘কওমী মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বাংলাদেশ’ নামে একটি স্থায়ী প্রতিষ্ঠান গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তীতে ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’-এর অধীন কওমি মাদরাসাসমূহের দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল)-এর সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি)-এর সমমান প্রদান আইন, ২০১৮ প্রণয়ন করা হয়। ওই আইনের মাধ্যমে ছয়টি কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের স্বীকৃতির কাঠামো তৈরি হয়।
স্বীকৃত ছয়টি বোর্ড হলো—বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ, বেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া গওহরডাঙ্গা বাংলাদেশ, আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশ, আযাদ দ্বীনি এদারায়ে তালীম বাংলাদেশ, তানযীমুল মাদারিসিদ দ্বীনিয়া বাংলাদেশ এবং জাতীয় দ্বীনি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বাংলাদেশ।
প্রধানমন্ত্রী জানান, গত ২৩ জুন ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা, ২০২৬’ সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত নীতিমালায় সহকারী মৌলভী (ক্বারী) ও ইবতেদায়ী ক্বারী পদে নিয়োগের কাম্য যোগ্যতা হিসেবে ওই ছয়টি কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সনদকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
এর ফলে কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল) ডিগ্রির পাশাপাশি ইলমে কিরাআত অথবা হিফজুল কোরআন সনদ থাকা ব্যক্তিরাও সংশ্লিষ্ট পদে নিয়োগের সুযোগ পাবেন।
এই সিদ্ধান্তের ফলে কওমি শিক্ষার্থীদের জন্য মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থায় কর্মসংস্থানের একটি নতুন পথ তৈরি হলো। একই সঙ্গে কওমি সনদের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও চাকরির ক্ষেত্রে এর ব্যবহারিক গুরুত্বও আরও বাড়ল।