
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের ওপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তদের এই হামলায় গুরুতর ৩ জন সহ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। বুধবার (১৯ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজলা গেট সংলগ্ন কাজলা ক্যান্টিনে খাবার খাওয়ার সময় এই ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহত শিক্ষার্থীরা হলেন, ফিন্যান্স বিভাগের ২০২১-২১ শিক্ষাবর্ষের আল ফারাবী, ২০২৩-২৪ বর্ষের তাহমিদ আহমেদ বখশী এবং নাট্যকলা বিভাগের ২০২৩-২৪ বর্ষের শিক্ষার্থী মিনহাজ। আহত বখশী রাবি মেডিকেল সেন্টার এবং ফারাবী ও মিনহাজ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাত ১১ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কাজলায় অবস্থিত ‘কাজলা ক্যান্টিনে’ রাতের খাওয়া-দাওয়া করছিলেন ফারাবি ও তার সঙ্গে কয়েকজন। এ সময় ১০-১৫ টি মোটরসাইকেলে করে মুখে কালো কাপড় বেধে এবং হেলমেট পরিহিত একটি দল রেস্টুরেন্টে আসে এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে ছবি দেখিয়ে একজনের খোঁজ করেন। এ সময় হুট করে তারা এলোপাতাড়ি হামলা শুরু করেন। তাদের ছাতে হাতুড়ি, রড, রামদাসহ বিভিন্ন অস্ত্রও দেখা গেছে। পরে সেখান থেকে মারধর করে ফারাবি এবং বখশীকে তুলে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে পৌনে ১২টার দিকে ফারাবিকে বিনোদপুর এলাকায় বেতার মাঠের পাশে এবং বখশীকে হবিবুর রহমান হলের সামনের থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে উদ্ধার হওয়ার পরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তামজিদ হাসান বখশী বলেন, ‘আমরা কাজলায় রেস্টুরেন্টে বসে খাচ্ছিলাম। এ সময় ১০-১৫ টি মোটরসাইকেল নিয়ে মুখোশ ও হেলমেট পরিহিত একটি দল আমাদের ওপর হামলা করে। পরে তারা আমাকে সেখানে রেস্টুরেন্টের সামনে ফেলে আমাকে পিটায় এবং আমাকে রিক্সায় করে তুলে নিয়ে সুইটের মোড়ের দিকে নিয়ে যায়। পরে সেখানে আমাকে অন্ধকারে বসায় এবং নানান প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে। এর ভেতর একটি কল আসে এবং তাদের বলে ‘আসলটাকে’ পেয়েছি। পরে আমি বলি আমি ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নই। আমি আন্দোলনের পরে ক্যাম্পাসে এসেছি। পরে আমাকে নিয়ে কাজলাস্থ মোল্লা স্কুলের এখানে রেখে চলে যায়। এ ঘটনায় কারা ছিলো আমি মুখ বেধে রাখার কারণে চিনতে পারিনি।’
তবে আহত আল ফারাবী নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদার বখশ হল শাখা দায়িত্ব প্রাপ্ত নেতা ছিলেন। পরবর্তীতে জুলাই গণঅভ্যূত্থানের সময় ১৫ জুলাইয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘সর্বপ্রথম’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগ করেন।
আহত আরেক শিক্ষার্থী মিনহাজ রহমান বলেন,‘আমি ক্যান্টিনে খাবার নিতে আসছিলাম। পরে সেখানে কয়েকজন মিলে একজনকে মারতে শুরু করে। আমি সেখানে ঠেকাতে গেলে তারা আমাকেও ধারালো অস্ত্র দ্বারা আঘাত করে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘কাজলায় আমাদের শিক্ষার্থীদের ওপর মুখে কাপড় বেধে এবং কেউ কেউ হেলমেট পরে একদল হামলা করে। এ সময় আমাদের দুইজন শিক্ষার্থীরে দুর্বৃত্তরা তুলে নিয়ে যাওয়া যায়। এ সময় পুলিশ কার্যক্রম অসন্তোষজনক ছিলো। পরে তাদের দুজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।’
মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মালেক বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে এখনও অভিযানে রয়েছি। বিষয়টি সম্পন্ন হলে বিস্তারিত জানানো হবে।’
এঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজলা গেটে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে আগুন জ্বালিয়ে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ