মালয়েশিয়া সরকারের নতুন করে নির্ধারিত বিদেশি কর্মী সরবরাহকারী সংস্থাগুলোর জন্য ১০টি শর্ত সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে নেপাল। দেশটি জানিয়েছে, এসব শর্ত তাদের শ্রম আইন ও নীতির পরিপন্থি এবং একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। ফলে এই শর্তে কর্মী পাঠাবে না নেপাল।
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) মালয়েশিয়ান সংবাদমাধ্যম মালয়েশিয়া কিনি জানায়, নেপালের শ্রম, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় কূটনৈতিকভাবে মালয়েশিয়াকে জানিয়েছে যে তারা এই শর্তগুলো পূরণে সক্ষম নয়। এ সংক্রান্ত একটি চিঠি নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পুত্রাজায়ায় পাঠানো হয়েছে।
নেপালি সংবাদমাধ্যম ই-কান্তিপুর জানায়, নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, মালয়েশিয়ার প্রস্তাবিত মানদণ্ড কার্যকর করতে হলে নেপালের অভ্যন্তরীণ আইনে পরিবর্তন আনতে হবে, যা বর্তমানে সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো বরাবরই নেপালের বিদেশি কর্মসংস্থান আইন, জাতীয় অভিবাসন নীতি এবং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক শ্রম চুক্তির আওতায় পরিচালিত হয়ে আসছে। তাই পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানই একমাত্র পথ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নেপাল অভিযোগ করেছে, মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উইসমা পুত্রা কর্তৃক নির্ধারিত ১০টি শর্ত অযৌক্তিক ও অন্যায্য। তাদের দাবি, এই শর্তগুলো বাজারে সিন্ডিকেট পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা এবং নতুন এজেন্সিগুলোকে বাদ দেওয়ার কৌশল।
গত ২৭ অক্টোবর উইসমা পুত্রা উৎস দেশগুলোর দূতাবাসগুলোকে একটি চিঠি পাঠিয়ে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে শর্ত পূরণে সক্ষম সংস্থার তালিকা চাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।
নেপালের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কির নির্দেশে এই কঠোর অবস্থান নেয় কাঠমান্ডু। তিনি শ্রম ও পররাষ্ট্র বিষয়ক অতিরিক্ত দায়িত্বেও রয়েছেন।
এ বিষয়ে আলোচনার জন্য নেপাল একটি যৌথ প্রযুক্তিগত কমিটির বৈঠক আহ্বান করেছে। পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় কর্মরত নেপালি শ্রমিকদের কল্যাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছে দেশটি।
সুশীলা কার্কি নেপালের পররাষ্ট্র সচিব অমৃত কুমার রায়কে পুত্রাজায়া এবং কাঠমান্ডুতে মালয়েশিয়ার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনার নির্দেশ দিয়েছেন।
অন্যদিকে, উইসমা পুত্রা জানিয়েছে, বিদেশি কর্মী নিয়োগের নীতি ও মানদণ্ড সম্পর্কিত যেকোনো প্রশ্ন মালয়েশিয়ার মানব সম্পদ মন্ত্রণালয়ে (কেসুমা) পাঠাতে হবে, কারণ এই বিষয়ে তারাই মূল কর্তৃপক্ষ।