প্রকাশ: শুক্রবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:০৪ AM

সংগৃহীত ছবি
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার ওপর থেকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে তার হোয়াইট হাউস সফরে আর কোনো বাধা থাকছে না।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়ে নিরাপত্তা পরিষদ এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিদ্রোহী যোদ্ধারা বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর তিনি সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। এর ফলে দেশটির ১৩ বছরের গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটে।
জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেন, “এই ভোটের মাধ্যমে সিরিয়ায় আসাদের শাসনের অবসান এবং দেশটির নতুন যুগে প্রবেশের একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা পাঠানো হয়েছে।”
আহমেদ আল-শারা মূলত জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিলেন, কারণ তিনি ইসলামপন্থি সংগঠন হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস)-এর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এই সংগঠন একসময় আল-কায়েদার সহযোগী ছিল, কিন্তু গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র এটিকে সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকা থেকে বাদ দেয়।
নিরাপত্তা পরিষদ সিরিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আনাস খাত্তাবের ওপর থেকেও নিষেধাজ্ঞা তুলে দিয়েছে। সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সামাজিক মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য বন্ধু দেশের প্রতি।
বিবিসি জানিয়েছে, আগামী সোমবার আহমেদ আল-শারা হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন। ট্রাম্প আগেই বলেছেন, সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট দেশটিতে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে “উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি” অর্জন করেছেন।
এর আগে চলতি বছরের মে মাসে রিয়াদ সফরের সময় ট্রাম্প ও শারার মধ্যে প্রথম বৈঠক হয়। ট্রাম্প শারাকে “দৃঢ়চেতা নেতা” এবং “শক্ত অবস্থানের অধিকারী ব্যক্তি” হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।
উল্লেখ্য, হায়াত তাহরির আল-শাম ২০১৬ সাল পর্যন্ত আল-কায়েদার সহযোগী ছিল। এরপর আহমেদ আল-শারা সংগঠনটির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। আগামী সোমবারের সফর এ বছর যুক্তরাষ্ট্রে তার দ্বিতীয় সফর হবে। এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে তিনি প্রায় ছয় দশক পর প্রথম সিরীয় নেতা হিসেবে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিয়েছিলেন।