কুড়িগ্রামের রৌমারীতে শতশত বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতার নামের তালিকা থেকে নাম কর্তন ও দালালদের মাধ্যমে স্বচল ব্যক্তিদের প্রতিবন্ধী ভাতার নাম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
আজ শনিবার (২৫ অক্টোবর) সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের টাপুরচর আশ্রয় কেন্দ্র এলাকায় একই পরিবারের একাধিক স্বচল ব্যক্তিকে ইউনিয়ন সমাজকর্মী জাইদুল ইসলাম জাহিদ প্রতিবন্ধী সাজিয়ে নুর জাহান, কহিনুর, জাহানারা, কলিম উদ্দিন, রশিদা, ওয়াহেদ আলী, বাদশা মিয়া, ইউনুস আলী ও রমজান আলীসহ অনেকের নামে ভাতা দেওয়া হয়েছে এবং কারো কারো সিম নম্বর পর্যন্ত নিয়েছেন ওই সমাজকর্মী।
এছাড়াও উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে দালালদের মাধ্যমে অর্থের বিনিময় কর্তনকৃত নামগুলো চূড়ান্ত করা হয় এবং যথা নিয়মে ভাতাও পান তারা। এসব দালালদের সাথে ইউনিয়ন সমাজকর্মীরা কৌশলে তাদের বাসায় ও বিভিন্ন নিরাপদ স্থানে গিয়ে চুক্তি করেন।
জানা যায়, জন্মগত প্রতিবন্ধী রহম আলী নিয়মিত ভাতা পেলেও বছর খানেক আগে তার নাম কর্তন করা হয়েছে। এরকম অসংখ্য প্রতিবন্ধী ব্যক্তির নাম ঢালাও ভাবে কর্তন করেছেন এই সমাজসেবা কর্মকর্তা। একইভাবে শতশত বয়স্ক ও বিধবা ব্যক্তির নাম কর্তন করা হয়েছে। যারা প্রায় এক বছর আগে থেকে এই ভাতা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
আরো জানা যায়, ভাতা বঞ্চিতরা প্রতিদিন সমাজসেবা অফিসে নামের জন্য ভিড় করছেন। সমাজসেবা কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা ভাতা বঞ্চিতদের সুকৌশলে ফিরিয়ে দিচ্ছেন। তা ছাড়াও স্বামী বেঁচে থাকলেও অর্থের বিনিময়ে মুনজুয়ারা খাতুন, সুফিয়া খাতুন ও ফালানি খাতুনসহ অগণিত মহিলাদের বিধবা সাজিয়ে ভাতার নাম দেওয়া হয়েছে। তাই বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।
এদিকে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার এমন ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সমাজসেবা অফিসটি দালালমুক্ত চান এলাকাবাসী।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, “অনেক আগে থেকেই তারা বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা নিয়মিত পেতেন। চলতি বছরের প্রথম দিকে রৌমারী উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের ভাতাভোগীদের অনেকের বিকাশ নাম্বারে টাকা আসেনি। ওই সময়ে সুবিধা বঞ্চিতরা উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে আসলেও সব নাম ঠিক করে দেওয়ার আশ্বাস দেন কর্মকর্তা।”
তবে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম দোষারোপ করছেন সাবেক কর্মকর্তা মো. মিনহাজ উদ্দিনকে। এ অবস্থায় বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা দিনের পর দিন সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করলেও কোনো সমাধান দেননি এই কর্মকর্তা।
জন্মগত প্রতিবন্ধী রহম আলী বলেন, “আমি আগে থেকেই প্রতিবন্ধী ভাতা পাই। গত বছর থেকে টাকা পাই না। শুনেছি স্যারেরা নাম কেটে দিছে। তারা আশ্বাস দিয়েছেন আমার নামটা করে দিবে। তারা আমাকে বলেছেন, এ কথা যেনো কাউকে না বলি।”
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, “আমি যোগদানের আগের ঘটনা এটি। তাই এ বিষয়ে কিছু জানিনা। অফিসে যারা আসছে, তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজ নিয়ে সমস্যা সমাধান করছি। স্বচল ব্যক্তির নামে প্রতিবন্ধী ভাতার নাম থাকলে তথ্য যাচাই-বাছাই করে বাদ দেওয়া হবে। তাছাড়া ভাতা বঞ্চিতরা নতুন করে আবেদন করতে পারবেন।” তবে দালালদের মাধ্যমে নাম দেওয়ার বিষয়েটি তিনি এড়িয়ে যান।
কুড়িগ্রাম জেলার সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক একেএম মনিরুজ্জামানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।