
তেঁতুলিয়া চৌরাস্তা বাজারে দাঁড়িয়ে থাকা শতবর্ষী তেঁতুলগাছ
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া চৌরাস্তা বাজারে দাঁড়িয়ে থাকা শতবর্ষী তেঁতুলগাছ এখন স্থানীয়দের এবং পর্যটকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। গাছটির সঠিক বয়স এখনও রহস্যে ঘেরা; কেউ বলছেন শতাধিক, আবার কেউ দেড়শো বছরও হতে পারে। তেঁতুলগাছ স্থানীয়দের কাছে কেবল ছায়া ও বিশ্রামের প্রতীক নয়, এটি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বের সঙ্গে পরিচিত। স্থানীয়রা গাছটিকে তেঁতুলতলা হিসেবে অভিহিত করেন।
পর্যটকরা গাছটির সঙ্গে তেঁতুলিয়ার নামকরণের সম্পর্ক নিয়ে আগ্রহী। স্থানীয়দের মতে, এ অঞ্চলে প্রচুর তেতুলগাছ থাকার কারণে তেঁতুলিয়ার নামকরণ হয়েছে। তবে কেউ বলছেন, ব্রিটিশ আমলের এক বণিকের নামের অংশ থেকে নামটি এসেছে। ইতিহাসে জানা যায়, কোচবিহারের রাজা বা মহারাণী এই অঞ্চলের প্রজাদের কাছ থেকে খাজনা নিতে ব্যর্থ হলে তেঁতুলের বীজ প্রতীকী খাজনা হিসেবে গ্রহণ করা হতো। এছাড়া, কোচবিহারের রাজা যেসব প্রজা খাজনা দিতে পারতো না, তাদেরকে এই তেঁতুলগাছের তলায় রাখা হতো। এইসব কিংবদন্তি ও স্থানীয় ইতিহাস গাছটির গুরুত্বকে আরও বাড়িয়েছে।
গাছটির উচ্চতা আনুমানিক ৫০ ফিট এবং বেড় প্রায় ২০০ ফিট। দীর্ঘদিন ধরে গাছটি অবহেলিত থাকলেও ২০০৬ সালে তেঁতুলিয়া মডেল থানার সাবেক এসআই ফজলুল হক স্থানীয়দের সহযোগিতায় গাছটির চারপাশে ইট ও কংক্রিটের বাউন্ডারি তৈরি করেন। বসার জন্য কংক্রিটের টুল স্থাপন করা হয়। সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসন গাছটিকে পর্যটক আকর্ষণের জন্য নতুন সাজে আলোকসজ্জা করেছে। সন্ধ্যা হলে রঙিন আলোতে গাছটি যেন জীবন্ত শিল্পকর্মে পরিণত হয়।
স্থানীয় ও দেশি-বিদেশি পর্যটকরা প্রতিদিন গাছটির নিচে এসে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন এবং তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেন। প্রশাসনের উদ্যোগে তেঁতুলগাছ শুধু আলোকিত হয়নি, বরং তেঁতুলিয়ার পর্যটন শিল্পেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, যুগ যুগ ধরে তেঁতুলগাছ এই অঞ্চলের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও স্মৃতি বহন করে এসেছে। পর্যটকদের কাছে এটি ঐতিহাসিক কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু। আমরা শুধু গাছটিই নয়, তেঁতুলিয়ার পর্যটনকে আরও সমৃদ্ধ করার জন্য নানা প্রকল্প হাতে নিয়েছি।
প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে তেঁতুলিয়া পিকনিক কর্নার, মহানন্দা পার্ক, ওয়াকওয়ে, শিশুদের জন্য পার্ক এবং পুরাতন বাজারের উন্নয়ন। স্থানীয় পর্যটন উন্নয়ন সংগঠনও বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে, যার মাধ্যমে তেঁতুলিয়ার পর্যটন শিল্প আরও সমৃদ্ধ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শহরজুড়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই শতবর্ষী তেঁতুলগাছ তাই কেবল একটি গাছ নয়; এটি তেঁতুলিয়ার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও পর্যটন সম্ভাবনার প্রতীক।
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো