প্রকাশ: বুধবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৫, ৬:৩৭ পিএম

দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার পথে দালালের প্রতারণায় জাম্বিয়ায় তিন বাংলাদেশি যুবক—নাজমুল শিপু (২৫), আবেদ মিয়া (২০) এবং সাইফ উদ্দিন মো. রায়হান (২১)—মৃত্যুবরণ করেছেন।
নাজমুল শিপু চাঁদপুর জেলার মতলব থানার বোয়ালিয়াবাড়ি, আবেদ মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার তালশাহার এলাকার বাসিন্দা। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) শিপু ও আবেদের মৃত্যুর খবর তাদের পরিবারের কাছে পৌঁছায়।
পরিবারের অভিযোগ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের দালাল বাবু ও কামরুজ্জামান দিপুর সঙ্গে ৯ লাখ টাকার চুক্তি করে নাজমুল শিপু ও আবেদকে দক্ষিণ আফ্রিকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রথমে ঢাকার একটি ট্রাভেলসের মালিক পুলকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ইথিওপিয়া পর্যন্ত বিমানের টিকিট কাটা হয়। পরে দালালরা তাদের কথা পাল্টে ইথিওপিয়া থেকে সড়কপথে মালাউই হয়ে জাম্বিয়ায় নিয়ে আসে এবং সেখানে অনাহারে রাখে।
নিহতদের এক সফরসঙ্গী জানান, জাম্বিয়ার দালাল চক্র দীর্ঘ সময় ধরে তাদের খাওয়াদাওয়া ও বিশ্রামহীন রাখে। এক রুমে ১৫-২০ জন লোককে বাধ্য করা হয় এবং কোনো অসুবিধা বা অভিযোগ প্রকাশ করলে মারধর করা হয়।
সাইফ উদ্দিন মো. রায়হানের (২১) মৃত্যুর খবর তার পিতার কাছে সাত দিন পর সোমবার রাত ১টায় পৌঁছায়। রায়হান চট্টগ্রামের বাঙ্গালনূর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। পরিবারের সঙ্গে ৯ লাখ টাকার চুক্তিতে দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
পরিবার ও সফরসঙ্গীদের ভাষ্যমতে, ঢাকা থেকে সরাসরি ফ্লাইটে দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার কথা থাকলেও তাদেরকে সড়কপথে ইথিওপিয়া, মালাউই, জাম্বিয়া, মোজাম্বিক হয়ে প্রেরণ করা হয়। দুর্গম পাহাড়ি পথে হাঁটতে গিয়ে রায়হান ক্লান্ত হয়ে পড়েন এবং স্থানীয় গাইডদের জোরে ফেলে দেওয়ার কারণে মৃত্যু ঘটে। মৃত্যুর আগে তিনি অনুরোধ করেছিলেন, “আমার পাসপোর্ট আর জুতাজোড়া আব্বুর কাছে পৌঁছে দিন।”
পরিবারের অভিযোগ, মৃত্যুর পরে দালাল চক্র তার লাশ পাহাড়েই পুঁতে ফেলে। রায়হানের পিতা বলেন, “ব্যবসায় সহযোগিতা করতে ছেলেকে এখানে পাঠিয়েছি। দালালের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। এমন মৃত্যু কোনো পিতা মেনে নেবে না।”
নিহতদের পরিবার বর্তমানে সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসের সাহায্য চেয়ে লাশ উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ