প্রকাশ: রবিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৫, ৩:০২ পিএম আপডেট: ১৯.১০.২০২৫ ৩:৩০ PM

তিতাসে মৌমাছি চাষে সফল সাতক্ষীরার ফরিদ হোসেন
সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার টেংরাখালী গ্রামের সন্তান ফরিদ হোসেন। ২০১৯ সালে মাত্র ১৬টি মৌমাছির বাক্স নিয়ে বন্ধুদের সহযোগিতা নিয়ে শুরু হয় তার ব্যবসা। সেখান থেকে তিনি আজ কয়েকশ’ বাক্সের মালিক। গত ৫ বছর ধরে মৌচাষে ঘুরে বেড়ান দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায়। তিন মাস আগে ফরিদ হোসেন তার ২৫০টি কাঠের বাক্স নিয়ে কুমিল্লার তিতাস উপজেলার মাছিমপুর-কলাকান্দি সড়কের পাশে জাকের হোসেনের বাগান বাড়িতে মৌমাছি চাষ শুরু করেন।
আজ রবিবার (১৯ অক্টোবর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তিনি বাক্সগুলো খুলে ঠিকঠাক করে প্রস্তুত করছেন পাহাড় ও যশোর অঞ্চলে মধু সংগ্রহ অভিযানে যাওয়ার জন্য। প্রতিটি বাক্সের ভিতর মৌমাছির গুঞ্জনে মুখর পরিবেশ; বাক্সের ওপর কালো পলিথিন ও চট দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে সূর্যের তাপ ও বৃষ্টির হাত থেকে সুরক্ষার জন্য।
ফরিদ হোসেন বলেন, আমি গত ৫ বছর ধরে বাক্স পদ্ধতিতে মৌমাছি ও মধু চাষ করে আসছি। মৌমাছি চাষ একটি লাভজনক ব্যবসা। খরচ কম কিন্তু লাভ অনেক বেশি। তাই আমি দীর্ঘ বছর ধরে এই ব্যবসা করছি। এই বছর ২৫০ টি বাক্স রয়েছে, তা থেকে ২৫ থেকে ৩০ মণ মধু উৎপাদন হবে। তবে অন্যান্য বছর তুলনায় এই বছর আরো বেশি আশা করি।
কেমন লাভ থাকবে এমন প্রশ্ন উত্তরে ফরিদ বলেন, দাম ভালো থাকলে সব খরচ গিয়ে আনুমানিক ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা মতো লাভ হবে।
তিনি আরও বলেন, মধু সংগ্রহে আমরা সাধারণত কাঠের বক্স ব্যবহার করি। যা দিয়ে শুধু মম ও মধু সংগ্রহ করা যায় কিন্ত ডিজিটাল বক্স দিয়ে মম, মধু, পরাগ রেনু, পুলেন, প্রোপোলিস ও মৌমাছির বিষ সংগ্রহ করা যায়। বাংলাদেশের মধু সবচেয়ে ভালো মধু। কারণ সরিষা, তিল, লিচু, বরইসহ আরও অনেক কিছু থেকে আমরা মধু সংগ্রহ করতে পারি।
এ বিষয়ে তিতাস উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, মধু চাষে তেমন কোনো পরিচর্যা করতে হয় না। খরচ কম, লাভ বেশি। শুধু দরকার একটি রানী মৌমাছি ও একটি বাক্স। ঘরের কোণে কিংবা উঠানে মৌমাছির রানী নিয়ে বাক্স বসিয়ে দিলেই মৌমাছি চলে আসে। সে জন্য অস্বচ্ছল ব্যক্তিদের জন্য এ চাষ খুবই সুবিধাজনক।
এছাড়াও মৌমাছি ফসলে পরাগায়ন সৃষ্টি করে যার ফলে কৃষি জমিতে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। মধু চাষিরা তাদের মৌচাক বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করায় মধুর পাশাপাশি এ এলাকার কৃষকরা অধিক ফসল ঘরে তুলতে পেরেছেন।