
সংগৃহীত ছবি
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের পর দিনই ভিড় জমেছে আমদানি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, কর্মকর্তা ও শ্রমিকদের। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ ও নথিপত্র যাচাইয়ে সকাল থেকেই সেখানে জড়ো হয়েছেন তারা। প্রত্যেকে জানাচ্ছেন ক্ষতির বিবরণ ও ক্ষোভের কথা।
রবিবার সকাল থেকে ঘটনাস্থলে আসেন বিভিন্ন আমদানিকারক, তৈরি পোশাক শিল্পের প্রতিনিধি ও পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। কয়েকটি তৈরি পোশাক উৎপাদক প্রতিষ্ঠান জানায়, কার্গো ভিলেজে পুড়ে যাওয়া পণ্যগুলোর মধ্যে তাদের আমদানি করা কাঁচামালও ছিল। এতে শুধু আমদানির ক্ষতিই নয়, উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং পণ্য পুনরায় আনতে গিয়ে নতুন করে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।
এদিকে, বিমান চলাচল শুরু হলেও অগ্নিকাণ্ডের ধাক্কা পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি বিমানবন্দর। বেশিরভাগ ফ্লাইটই ছাড়তে হচ্ছে বিলম্বিত সময়ে। ফলে বিদেশগামী যাত্রীদের মধ্যে ভোগান্তি বেড়েছে, বিশেষ করে ট্রানজিট যাত্রীরা পড়েছেন চরম বিড়ম্বনায়।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতের শিডিউলে থাকা অনেক ফ্লাইট ছাড়তে হয়েছে আজ সকালে। কোনো কোনো ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত। এমনকি সকালের ফ্লাইটগুলোকেও ছাড়তে হচ্ছে দুই থেকে তিন ঘণ্টা দেরিতে।
শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে বিমানবন্দরের কার্গো সেকশনে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। সহায়তা দেয় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিজিবি। দীর্ঘ সাত ঘণ্টা চেষ্টার পর রাত সোয়া ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
আগুনের কারণে বিমানবন্দরে ফ্লাইট ওঠানামা সাত ঘণ্টা বন্ধ থাকে। বিকল্পভাবে কয়েকটি ফ্লাইট সিলেট ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে রাত ৯টার দিকে আবার ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়।
এ ঘটনায় তদন্তে দুটি পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে আগুনের কারণ, ক্ষয়ক্ষতি ও দায়দায়িত্ব নির্ধারণ করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছে।
অন্যদিকে, অর্থ মন্ত্রণালয়ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। এতে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান পাটওয়ারীকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটিতে সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন উপসচিব পঙ্কজ বড়ুয়া, আর সদস্য হিসেবে আছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রথম সচিব মু. রইচ উদ্দিন খান ও তারেক হাসান, এবং ঢাকা কাস্টম হাউসের যুগ্ম কমিশনার মুহাম্মদ কামরুল হাসান।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হতে পারে। পূর্ণাঙ্গ হিসাব পেতে তদন্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।