প্রকাশ: বুধবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৫, ১১:০৪ AM আপডেট: ১৫.১০.২০২৫ ১১:৫৯ এএম

অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, ‘আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চাপিয়ে দেওয়া শর্তে ঋণ নিতে বাংলাদেশ আর কোনো নতি স্বীকার করবে না।’
ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আইএমএফ যদি পুনরায় এমন শর্ত দেয়, যেগুলো আমাদের জন্য বন্ধুসুলভ নয়, তাহলে আমরা সেখানে যাব না।’
করোনো পরবর্তী সময়ে রিজার্ভের পতন শুরু হলে বাংলাদেশ ২০২২ সালে আইএমএফের সঙ্গে ৪৭০ কোটি ডলারের একটি ঋণচুক্তি করে। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তী সরকার আরও ৮০ কোটি ডলারের ঋণ নেয়। তবে এসব ঋণের বিপরীতে সংস্থাটি নানাবিধ সংস্কার শর্ত আরোপ করে আসছে।
কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অর্থনীতি কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। রেমিট্যান্স ও প্রবাসী আয়, বিশেষ করে প্রতি মাসে ৩-৪ বিলিয়ন ডলারের প্রবাসী আয়, সরকারকে একটি দৃঢ় অবস্থান নিতে সহায়তা করেছে।
সম্মেলনের একই দিনে অর্থ সচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার জানান, বিশ্বব্যাংকের সহযোগী সংস্থা মিগার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। রপ্তানিকারকদের সহায়তা দিতে এবং রিজার্ভের ওপর যাতে চাপ না পড়ে, সেজন্য রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল বা ইডিএফ তহবিলের জন্য সংস্থাটি ৫০ কোটি ডলার অর্থ সহায়তা দেবে। এটি নিয়ে বর্তমানে আলোচনা চলছে।
এক প্রশ্নের জবাবে সরকারের প্রতিনিধিরা জানান, কোনো বিশেষ গ্রুপকে সহায়তা দিতে নয় বরং সেবার মান নিশ্চিত করতেই চট্টগ্রাম বন্দরের শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। সরকারের প্রতিনিধিদের প্রত্যাশা, অন্তর্বর্তী সরকার মেয়াদে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির এই প্রেক্ষাপটে প্রতি মাসে ৩-৪ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয়ের পাশাপাশি রপ্তানি আয়েও গতি বাড়াতে পারলে দাতা সংস্থার ঋণ নির্ভরতা অনেকটাই কমে আসবে বাংলাদেশের।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম