বগুড়ার ধুনট উপজেলায় আধুনিক পদ্ধতিতে আখ চাষ করে সফলতা পেয়েছেন কয়েকজন প্রগতিশীল কৃষক।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার গোসাইবাড়ি, চিকাশী, গোপালনগর ইউনিয়নের ৭০ থেকে ৮০ হেক্টর জমিতে সৃষ্টি, রংবিলাশ, ঈশ্বরদী ৪২, গেন্ডারি জাতের আখ চাষ করা হয়েছে ।
কম খরচে বেশি উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে তারা এই চাষ শুরু করেন, এখন তা আশাব্যঞ্জক ফলন এবং ভালো বাজারমূল্য দিচ্ছে। সারি ভিত্তিক ও আধুনিক ব্যবস্থাপনায় প্রতি একরে আখের উৎপাদন অনেক বেশি হয়। সারি ভিত্তিক চাষে গাছ কাটা, আখ বহন ও মজুত করাও সহজ হয়। উন্নত ব্যবস্থাপনায় খরচ কমে, ফলে কৃষক বেশি লাভবান হন। এইসব সুবিধার কারণে কৃষকরা এখন আগের চেয়ে বেশি আগ্রহী হয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে আখ চাষ করছেন।
বাশঁপাতা গ্রামের কৃষক মুকুল হোসেন বলেন, “সনাতন পদ্ধতির বদলে সারি ভিত্তিক চাষ, উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার, সঠিক সময় সেচ ও পরিচর্যার মাধ্যমে এবার ফলন ভালো হয়েছে। গত বছর ১ বিঘা জমিতে আখ লাগিয়েছি, অনেক ভালো ফলন হয়েছে। এ বছর ভালো দামে বিক্রয় করতে পেরেছি। ১ মাস আগেও ২০ শতাংশ জমিতে সৃষ্টি ও রংবিলাশ জাতের আখ চাষ করেছি।”
কৃষক সোহাগ বলেন, “আধুনিক পদ্ধতিতে আখ চাষে আখ অনেক বড় ও মোটা হয় যার বাজারে ভালো চাহিদা থাকে। আধুনিক পদ্ধতিতে আখ চাষে আখগুলো জমিতে সারিবদ্ধ থাকে। আখ সারিবদ্ধ থাকলে সেচ ও পরিচর্যা অনেক সহজ হয় এতে খরচ কমে। স্থানীয় বাজারে প্রতি পিচ আখ ২০/৩০ টাকা খুচরা দামে বিক্রি করা হয় এতে করে আমরা ভালো লাভবান হয়েছি।”
ধুনট স্থানীয় হাটের আখ বিক্রেতা আয়নাল হক বলেন, “আমি ৫ বছর ধরে বিভিন্ন বাজারে আখ বিক্রি করে আসছি। গরমের সময় বাজারে খুব ভালো চাহিদা থাকে। কিন্তু শীতের দিনে এর চাহিদা কিছুটা কম লক্ষ করা যায়। প্রতি পিচ আখ ২০/৩০ টাকা দামে বিক্রি করি।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সামিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছি। আখ চাষে আধুনিক ব্যবস্থাপনার ফলে ধুনটে কৃষির নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। আধুনিক পদ্ধতিতে আখ চাষে ২০ থেকে ৩০ ভাগ ফলন বেশী হয়। আশা করি, সরকার সহায়তা করলে এবং বাজার ব্যবস্থাপনা ঠিক থাকলে ধুনটের আখ চাষ আরও বিস্তৃত হবে এবং কৃষকেরা লাভবান হবেন।”