প্রকাশ: রবিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৫, ৫:৩৮ পিএম

প্রতীকী ছবি
২০২৫ সালের সামরিক শক্তি সূচকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে বিশাল ব্যবধান উঠে এসেছে। বিশ্ব সামরিক শক্তি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ারের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, পাকিস্তান সব দিক- জনশক্তি, প্রতিরক্ষা বাজেট, আধুনিক অস্ত্র ও বিমান শক্তিতে আফগানিস্তানের চেয়ে অনেক এগিয়ে।
গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার সূচকে পাকিস্তানের শক্তি সূচক ১০.২৫, যা বিশ্বে ১২তম স্থান অর্জন করেছে। অন্যদিকে আফগানিস্তানের সূচক মাত্র ২.৬৪, যা ১১৮তম অবস্থান নির্দেশ করে।
জনশক্তি ও প্রতিরক্ষা
পাকিস্তান প্রায় ৫ লাখ সক্রিয় ও আধাসামরিক সেনা নিয়ে আঞ্চলিক শক্তিশালী বাহিনী গড়ে তুলেছে। আফগানিস্তানে কোনো পূর্ণাঙ্গ নিয়মিত সেনাবাহিনী নেই; তাদের সক্রিয় বা রিজার্ভ বাহিনী প্রায় শূন্যের কোঠায়। প্রশিক্ষণ ও আধুনিক অস্ত্র ব্যবহারে পাকিস্তানের সেনারা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও ন্যাটো-সমর্থিত প্রশিক্ষণ পেয়েছে, যা আফগান বাহিনীর ক্ষেত্রে নেই।
বাজেট ও অর্থনৈতিক
প্রতিরক্ষা বাজেটেও দুই দেশের ব্যবধান চোখে পড়ার মতো। পাকিস্তানের বাজেট ৭.৬৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যেখানে আফগানিস্তানের বাজেট মাত্র ২৯ কোটি ডলার। এ পার্থক্য সামরিক প্রযুক্তি ও সরঞ্জামের আধুনিকীকরণে বড় প্রভাব রাখছে।
নৌবাহিনী
আফগানিস্তান ল্যান্ডলকড হওয়ায় নৌবাহিনী গঠনের সুযোগ নেই। পাকিস্তানের নৌবাহিনী কার্যকর ও উন্নত, যা ভারত মহাসাগর অঞ্চলে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।
বিমান ও স্থল শক্তি
পাকিস্তানের হাতে প্রায় ১,৪০০টি বিমান রয়েছে, যার মধ্যে যুদ্ধবিমান, আক্রমণ হেলিকপ্টার ও কার্গো প্লেন অন্তর্ভুক্ত। আফগানিস্তানের বিমান শক্তি কার্যত নিষ্ক্রিয়, তাদের হাতে মাত্র ৯টি বিমান আছে। স্থল বাহিনীর ক্ষেত্রেও পাকিস্তানের কাছে ট্যাংক, সাঁজোয়া যান, স্বচালিত আর্টিলারি ও রকেট সিস্টেমসহ আধুনিক অস্ত্রের বিস্তৃত ভান্ডার আছে, আফগান বাহিনী এসব ক্ষেত্রে পিছিয়ে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, আফগানিস্তান রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্বল অর্থনীতি ও সীমিত আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কারণে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে শক্তিশালী হতে পারছে না। তবে পাহাড়ি ভূখণ্ড ও স্থানীয় গেরিলা কৌশলে আফগান যোদ্ধাদের কিছু সুবিধা থাকলেও সামগ্রিকভাবে পাকিস্তান আঞ্চলিক সামরিক ক্ষমতায় অনেক এগিয়ে।
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো