বিগত ১৫ বছরে গুম-খুনের সাথে জড়িত সকল সেনা কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেতৃবৃন্দ। এসময় ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম বলেন, সকল খুনি-ধর্ষকদের বিচার এ মাটিতেই হবে, ইনশাআল্লাহ।
আজ শনিবার (১১ সেপ্টেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানান ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এসএম ফরহাদ।
সাদিক কায়েম বলেন, “গুম খুনের মাস্টারমাইন্ড স্বৈরাচার খুনি হাসিনা ও অভিযুক্ত জেনারেলদের অবশ্যই বিচার করতে হবে। গুম, খুন, ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধে জড়িতদের বিচারের ক্ষেত্রে কোনো টালবাহানা সহ্য করা হবে না।”
সাদিক কায়েম উল্লেখ করেন, “গত পনেরো বছরের শাসনামলে সামরিক ও বেসামরিক কাঠামোকে ব্যবহার করে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।”
এছাড়া তিনি ওয়ালীউল্লাহ, আল মুকাদ্দাস, ইলিয়াস আলীসহ গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের অপেক্ষার কথা তুলে ধরে বলেন, “এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িতরা দেশরক্ষার শপথ ও ইউনিফর্মের দায়িত্ববোধকে পদদলিত করে ফ্যাসিবাদের পদলেহনে মেতে উঠেছিল। অথচ এখন তাদের বিচার প্রক্রিয়ায় ষড়যন্ত্র চলছে।”
ছাত্রসমাজের পক্ষ থেকে দ্ব্যর্থহীনভাবে তিনি বলেন, “খুনি, ধর্ষক, গুমকারী যে পরিচয়েই থাকুক, তাদের কঠোর বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।”
এদিকে ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, “সেনাবাহিনীকে সত্যিকারের মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে হলে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত কর্মকর্তাদের অবশ্যই বিচার করতে হবে”
তিনি বলেন, “বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দুঃশাসনে গুম, নির্যাতন, মিথ্যা মামলা ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরী করেছিল। গুম কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী মাত্র ১৩ কার্যদিবসে প্রায় ১৮’শ গুমের অভিযোগ জমা পড়েছে। এর শিকার হয়েছেন সাধারণ নাগরিক, শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী, নারী এবং ইসলামী ছাত্রশিবির, জামায়াত, বিএনপিসহ আওয়ামী ফ্যাসিবাদ বিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। এমনকি শিশুরাও এই নৃশংসতার থেকে বাদ যায়নি।”
তিনি আরও বলেন, “এ সকল গুম, নির্যাতন ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসে কেবল স্বৈরাচার হাসিনা ও তার আওয়ামী ফ্যাসিবাদই দায়ী নয়; এর সাথে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর উচ্চপদস্থ অনেক সদস্যরাও জড়িত। গুমের পর আয়নাঘরে চালানো অমানবিক নির্যাতন সভ্য সমাজে ঘৃণিত ও নিন্দনীয়।”
এস এম ফরহাদের মতে, “সেনাবাহিনী বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। সেনাবাহিনীকে সত্যিকারের মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে হলে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত কর্মকর্তাদের অবশ্যই বিচার করতে হবে। এটি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ইগো বা মর্যাদার প্রশ্ন নয়; এটি রাষ্ট্র, গণতন্ত্র এবং ন্যায়বিচারের প্রশ্ন।”
তিনি অপরাধীদের দায়মুক্তির বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, “চিহ্নিত অপরাধীদের সেইফ এক্সিট তৈরীর চেষ্টায় জড়িতদেরকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”