প্রকাশ: শনিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৫, ৩:৩৫ পিএম আপডেট: ১১.১০.২০২৫ ৩:৪১ PM

সংগৃহীত ছবি
সময় কারোর জন্য থেমে থাকে না, নদীর স্রোতের মতো সময়ও বয়ে যায়। চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদার জীরাট খেয়াঘাটে সেই স্রোতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আজও জীবন অতিবাহিত করছেন লিয়াকত মাঝি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের খেয়া-কবিতার মতোই-“খেয়া নৌকা পারাপার করে নদী স্রোতে, কেহ যায় ঘরে, কেহ আসে ঘর হতে” -অনেকেই প্রতিদিন তাঁর খেয়ায় এসে যাওয়ার সাক্ষী।
লিয়াকত মাঝি জীরাট গ্রামের (পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউপির) সিরাজ মাদরাসা পাড়ার বাসিন্দা। বর্তমানে তাঁর বয়স ৬৭ বছর। দীর্ঘ দশ বছর ধরে মাথাভাঙ্গা নদীর ওপর খেয়া নৌকা চালিয়ে তিনি চার গ্রামের মানুষকে পারাপার করে সংসার চালান। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বৈঠা ঠেলেই অথবা রশি টেনে তিনি মানুষকে পার করে দেন। কিন্তু বার্ধক্যের ছাপ তাকে ক্লান্ত করেছে; কোমর সোজা করে দাঁড়ানোও কষ্টসাধ্য।
স্থানীয়দের দাবি, লিয়াকত মাঝি জরুরি ওষুধ পৌঁছে দেওয়া থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আনায়-নোয়ায় প্রতিদিনই সাহায্য করেন। তিনি নিজে বললেন, প্রতিদিন নৌকা চালিয়ে তিনশ থেকে চারশ টাকা করি। বর্তমান বাজারদর বৃদ্ধির কারণে সংসারের ব্যয় বহন করা খুবই কঠিন।
পরিবারে দুই ছেলে, এক মেয়ে ও নাতি-নাতনি থাকলেও নিজস্ব জমি নেই। কিছু বছর আগে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সহযোগিতায় সরকারী খাস জমিতে একটি ঘর পেয়েছেন; সেখানেই পরিবারটি থাকা। লিয়াকত মাঝি বলেন, আমি কোনও জমির মালিক নই; পরের জমিতে বসবাস করে আসছি। এখন বৃদ্ধ বয়সে খেয়া চালিয়ে জীবিকা চলাচ্ছি, নৌকার বৈঠার তালে তালে আমার জীবন চলে।
স্থানীয়রা বলেন, দশ বছর ধরে লিয়াকত মাঝি গ্রামের মানুষের পারাপারে নিরলসভাবে কাজ করছেন। তাঁকে সমাজ ছাড়া টিকে থাকা কঠিন। বার্ধক্য, ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সীমিত আয়ের মধ্যে লিয়াকত মাঝি বলেন, নদীর স্রোতের মধ্যে হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করে। এমনই প্রচ্ছন্ন এক অনিদ্রায় তার দিন কেটে যাচ্ছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো