প্রকাশ: বুধবার, ১ অক্টোবর, ২০২৫, ৮:১১ পিএম

টানা চার দিনের অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত হওয়ার পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে খাগড়াছড়ি। তবে ১৪৪ ধারা বহাল থাকায় এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি জনজীবন, কাটেনি অজানা আতঙ্কও।
জুম্ম ছাত্র জনতা গতকাল মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে ফেসবুক পেজে এক ঘোষণায় তিন পার্বত্য জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ঘোষিত অবরোধ কর্মসূচি আগামী ৫ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিতের ঘোষণা দেয়। শারদীয় দুর্গোৎসব ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া ৮ দফা দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
বুধবার (১ অক্টোবর) সকাল থেকে খাগড়াছড়ি জেলা শহরে টমটমসহ যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে, খুলতে শুরু করেছে দোকানপাটও। তবে ১৪৪ ধারা বহাল থাকায় জনসমাগম সীমিত রয়েছে। দূরপাল্লার যানবাহন সীমিত আকারে চলাচল করছে, সাধারণ মানুষের মনে রয়ে গেছে আতঙ্ক।
অবরোধ চলাকালে ২৭ ও ২৮ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি ও গুইমারায় সহিংসতার ঘটনায় তিনজন নিহত এবং অনেকে আহত হন। এ সময় গুইমারার রামসু বাজারসহ খাগড়াছড়ির বিভিন্ন স্থানে দোকানপাট, বসতবাড়ি ও সরকারি অফিস অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনা, বিজিবি ও র্যাবের টহল জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান মাহমুদ ও খাগড়াছড়ি জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মো. খাদেমুল ইসলাম বিভিন্ন দুর্গাপূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেন। তারা বলেন, “শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিতে হবে, শিগগিরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।”
খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি আব্দুল বাতেন মৃধা বলেন, “জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হচ্ছে। গাড়ি চলাচল শুরু হয়েছে। খুব দ্রুতই আগের মতো স্বাভাবিক হবে পরিস্থিতি।”
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক এবিএম ইফতেখারুল খন্দকার ইসলাম বলেন, “পরিস্থিতি ক্রমেই স্বাভাবিক হচ্ছে। একবার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এলে ১৪৪ ধারা তুলে নেওয়া হবে।”
এদিকে সাম্প্রতিক ঘটনার তদন্তে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘ধর্ষণের ঘটনা’ সংক্রান্ত গুজব প্রসঙ্গে খাগড়াছড়ি সিভিল সার্জন ডা. ছাবের বলেন, “মেডিকেল পরীক্ষার রিপোর্ট এখনো প্রকাশ করা হয়নি। রিপোর্ট পুলিশের মাধ্যমে আদালতে উপস্থাপন করা হবে।”
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর