প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৩:১২ পিএম আপডেট: ২৩.০৯.২০২৫ ৩:২৭ PM

ফাইল ছবি
তরঙ্গ জিম্মি করে কয়েকটি কোম্পানি বিটিআরসি তথা দেশের শত কোটি থেকে হাজার টাকা হাতানোর ধান্ধা করছে দীর্ঘদিন ধরে। এই অপচর্চাটা বন্ধ করতে হবে স্থায়ীভাবে।
অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক উদাহরণ হচ্ছে ৭০০ মেগাহার্জ জিম্মি করা, তাও ১৭ বছর ধরে এই মাফিয়াগিরি চলছে। বাংলাদেশের বিবেচনায় এই তরঙ্গ ৪জি-৫জি নেটওয়ার্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তরঙ্গ। এভাবে প্রযুক্তির অস্তিত্ব শেষ হয়ে গেছে (সিডিএমএ, ডব্লিউএলএল), কিন্তু ক্ষতিপূরণের নামে আদালতে মামলা করে তরঙ্গগুলো ধরে রাখা হয়েছে, বরাদ্দ দেওয়া যাচ্ছে না-লিটারালি হাজার কোটি টাকার স্পেক্ট্রাম সম্পদ। বিঘ্নিত হচ্ছে কৌশলগত টেলিকম সেবা, কারণ তরঙ্গ হচ্ছে প্রাকৃতিক সম্পদ যা সীমিত। চাইলেই যে কোনো তরঙ্গ যে কোনো জায়গায় ব্যবহার করা যায় না।
শুরু হয়েছে তৎকালীন বিটিআরসির অজ্ঞানতা জনিত ভুল থেকে। একটা সেলুলার মোবাইল সেবা দেওয়ার আন্তর্জাতিক কমার্শিয়াল তরঙ্গ (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল টেলিকমিউনিকেশন, আইএমটি স্পেকট্রাম), যা আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন স্বীকৃত, সেটা আপনি স্বাস্থ্য বা শিক্ষা সেবার নাম করে নন-সেলুলার অপারেশনে দিতে পারেন না। কারণ টেলিযোগাযোগের তরঙ্গ দুর্লভ। ১৭ বছর ধরে তরঙ্গ আটকিয়ে রেখে র্যানসম আদায়ের একটি দুর্বৃত্ত চক্র সচল। এ চক্র থামাতে মহামান্য আদালতের সর্বোচ্চ সুবিবেচনা প্রয়োজন।
যেহেতু ৮০০/৯০০ ব্যান্ডের তরঙ্গ টুজিতে ব্যস্ত, দেশে টুজি ব্যবহার এখনো বেশি, তাই ৭০০ মেগাহার্জের তরঙ্গ না হলে আমরা আমাদের নেটওয়ার্ক ভালো করতে ব্যর্থ হব। এখন মধ্য-উচ্চ তরঙ্গ দিয়ে নেটওয়ার্ক করা হচ্ছে, যার সিগন্যাল বেশি দূর যায় না। ফলে ঘরের ভিতরে, টাওয়ার থেকে দূরে কিংবা ডিপ ইন্ডোরে আমাদের নেটওয়ার্ক ভালো না।
এটা একটি মৌলিক সমস্যা, যা সমাধান না হলে বাংলাদেশের ফোরজি ও ফাইভজি নেটওয়ার্ক কিছুতেই ভালো হবে না।
বিপর্যয়ের মুখে দেশের টেলিকম খাত। মোবাইল টেলিকম সেবার জন্য সবচেয়ে মূল্যবান ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ৭০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম গত ১৭ বছর ধরে অখ্যাত এক প্রতিষ্ঠান-‘অলওয়েজ অন বাংলাদেশ’ (এওএনবি)-এর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আন্তর্জাতিক টেলিকম সংস্থা (আইটিইউ) যে ব্যান্ডকে বিশ্বব্যাপী ৪জি ও ৫জি সেবার মূল ভরসা হিসেবে চিহ্নিত করেছে, সেটিই জিম্মি করে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি। ফলে কল ড্রপ, ধীরগতির ইন্টারনেট, গ্রামীণ-শহুরে বৈষম্য এবং দুর্বল নেটওয়ার্ক কাভারেজ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।
লেখক: কলামিস্ট
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো