প্রকাশ: শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ২:০৩ পিএম

সংগৃহীত ছবি
চুয়াডাঙ্গায় একদল চোর বৈদ্যুতিক মিটার চুরি করে নতুন ধরনের প্রতারণায় নেমেছে। মিটার খুলে নেওয়ার পর খুঁটিতে মোবাইল নম্বর ঝুলিয়ে যাচ্ছে তারা। সেই নম্বরে ফোন করলে চাওয়া হচ্ছে টাকা, আর টাকা পাঠালেই অনেক ক্ষেত্রে ফেরত মিলছে চুরি হওয়া মিটার। এতে ভুক্তভোগীদের জিম্মি করে মুক্তিপণের মতো অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে চক্রটি।
গত কয়েক রাতের মধ্যে হাতিকাটা, আলুকদিয়া ও ভালাইপুর এলাকা থেকে অন্তত অর্ধশত থ্রি-ফেজ মিটার চুরির ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয়রা জানান, চোরচক্র ৪ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছে। কেউ কেউ বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে টাকা পাঠিয়ে মিটার ফেরত পেয়েছেন, আবার কেউ টাকা দিয়েও এখনও অপেক্ষায় আছেন। অনেকে তো অর্থ দেওয়ার পরও মিটার ফেরত পাননি।
একজন ভুক্তভোগী বলেন, মিটার চুরি হওয়ার পর বিকাশে ৪ হাজার টাকা পাঠালে নির্দিষ্ট জায়গায় সেটি রেখে যায় চোররা। পরে সেখান থেকে সংগ্রহ করেছি।
আরেকজন বলেন, আমার মিটারও চুরি গেছে। টাকা না দিলে ফেরত দেবে না বলেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এক রাতে ২৩টি মিটার চুরির ঘটনা ঘটলেও বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বা পুলিশ কারও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। ফলে দিন দিন ভুক্তভোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
চুয়াডাঙ্গা জোনাল ও মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, চুরি হওয়া মিটার কোথাও ব্যবহার করা যাবে না। এগুলো বোর্ড থেকে সিল করা থাকে। সিল ভাঙলে পুনরায় রিসিল করতে হয়। কিন্তু চক্রটি মাঝখানে মুক্তিপণ আদায় করে গ্রাহকদের হয়রানি করছে।
চুয়াডাঙ্গার সিআইসি পরিদর্শক মোহাম্মদ সামসুদ্দোহা জানান, জেলার পুলিশের একাধিক টিম এ বিষয়ে কাজ করছে। দ্রুত চক্রটিকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
শুধু চুয়াডাঙ্গায় নয়, মেহেরপুরের বারাদি, আমঝুপি ও চাঁদবিল এলাকাতেও একই ধরনের ঘটনা ঘটছে বলে জানা গেছে।