প্রকাশ: সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৮:২৬ পিএম

ভারতের কেরালা রাজ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে মারাত্মক রোগজীবাণু মস্তিষ্ক-খেকো অ্যামিবা বা নেগেলেরিয়া ফাওলেরি (Naegleria fowleri)। গত নয় মাসে এ রোগে মারা গেছেন অন্তত ১৭ জন, যার মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই মৃত্যু হয়েছে সাতজনের। আক্রান্তরা মূলত কোঝিকোড়, কান্নুপুর এবং মালাপ্পুরম অঞ্চলের বাসিন্দা। এ রোগে শিশু থেকে বয়স্ক পর্যন্ত আক্রান্ত হচ্ছেন।
রোগের উৎস ও সংক্রমণ
চিকিৎসকদের মতে, অ্যামিবাটি উষ্ণ জলাশয়ে জন্ম নেয়। এটি সরাসরি মানুষকে আক্রমণ করে না, তবে দূষিত পানি নাক দিয়ে শরীরে প্রবেশ করলে নাকের টিস্যু থেকে মস্তিষ্কে চলে যায়। সেখানে মেনিনজাইটিসের মতো সংক্রমণ তৈরি করে। রোগটি বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী সংক্রমণ; সংক্রমণের ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই রোগী মারা যান।
উপসর্গ ও মারাত্মক পরিণতি
সংক্রমণের ১ থেকে ৯ দিনের মধ্যে প্রাথমিকভাবে মাথাব্যথা, জ্বর, বমি ইত্যাদি সাধারণ ফ্লুর মতো লক্ষণ দেখা দেয়। দ্রুতই ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, বিভ্রান্তি, খিঁচুনি এবং অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো স্নায়ুবিক সমস্যা দেখা দেয়। সময়মতো চিকিৎসা না হলে পাঁচ দিনের মধ্যেই মৃত্যু ঘটে। মৃত্যুহার প্রায় ৯৭ শতাংশ।
কেন কেরালায় বেশি সংক্রমণ?
২০২৪ সালে কেরালায় এ রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৩৬ জন, মারা যান ৯ জন। কিন্তু ২০২৫ সালে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে মৃত্যু বেড়েছে ১৭ জনে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু উষ্ণতা বৃদ্ধি, দূষণ এবং স্থানীয় পুকুর-জলাশয়ের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এর মূল কারণ। বিশেষত কোঝিকোড় ও মালাপ্পুরমের পুকুরগুলোর পানিতে অ্যামিবার উপস্থিতি বেশি।
প্রতিরোধ ও সতর্কতা
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, এ সময়ে সাঁতার বা ডাইভিং এড়িয়ে চলা উচিত। প্রয়োজনে নাকে ক্লিপ ব্যবহার করতে হবে যাতে পানি ঢুকতে না পারে। নাক পরিষ্কারে জীবাণুমুক্ত সলিউশন বা ফুটানো পানি ব্যবহার করতে হবে। সাঁতার কাটার পর মাথাব্যথা, জ্বর বা ঘাড় ব্যথা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কেরালা সরকার ইতিমধ্যেই জলাশয়ের পানি পরীক্ষা ও ক্লোরিনেশন শুরু করেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতা এবং সতর্কতাই এ রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ