প্রকাশ: রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৮:০৬ পিএম আপডেট: ১৪.০৯.২০২৫ ৮:২৯ PM

পাকিস্তানের করাচির ক্যাফে সাত্তার বকশ মার্কিন বহুজাতিক কফিহাউস চেইন স্টারবাকসের বিরুদ্ধে ট্রেডমার্ক আইনি যুদ্ধে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে। আদালতের এই সিদ্ধান্তকে এক বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের ওপর স্থানীয় সৃজনশীলতার বিরল বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সাত্তার বকশ নামের ক্যাফেটি কেবল তার কফির জন্যই নয়, বরং অভিনব ব্র্যান্ডিংয়ের জন্যও পরিচিতি পেয়েছে। তাদের লোগোতে একটি গোলাকার সবুজ হলোগ্রামের মধ্যে গোঁফওয়ালা পুরুষের সাদাকালো ছবি দেখা যায়, যা অনেকেই স্টারবাকসের বিখ্যাত মারমেইড প্রতীকের সাথে মিল রাখে বলে মনে করেন। নামের উচ্চারণ এবং লোগোর নকশা অনলাইনে বিতর্কের জন্ম দেয়, যা সারাবিশ্বের কফিপ্রেমীদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।
২০১৩ সালে উদ্যোক্তা রিজওয়ান আহমেদ ও আদনান ইউসুফের হাত ধরে চালু হয় সাত্তার বকশ। শুরু থেকেই নাম ও লোগোর সাদৃশ্যের কারণে এটি নজর কাড়েছিল। তবে ক্যাফের প্রতিষ্ঠাতারা জোর দিয়ে বলেন, এটি কোনো অনুকরণ নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিকভাবে অর্থবহ ব্যঙ্গ হিসেবে তৈরি হয়েছে। তারা নিজেদের আলাদা প্রমাণ করার জন্য লোগোর গোঁফযুক্ত চিত্র, নামের ফন্ট এবং রঙের টোনের পার্থক্য তুলে ধরেছেন।
আইনি লড়াইয়ে পাকিস্তানের ট্রেডমার্ক আইন অনুযায়ী সুপরিচিত ব্র্যান্ডগুলো এমন অনুকরণ থেকে সুরক্ষিত থাকে যা গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করতে পারে। স্টারবাকসের যুক্তি ছিল, সাত্তার বকশ এই নিয়ম লঙ্ঘন করেছে। কিন্তু আদালত স্থানীয় ক্যাফের ব্যঙ্গ, সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট এবং অনন্য মেনু বিবেচনা করে সাত্তার বকশের পক্ষে রায় দেয় এবং কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়।
এই রায়কে পাকিস্তানের উদ্যোক্তা ও সাংস্কৃতিক মহল একটি দৃষ্টান্তমূলক জয় হিসেবে দেখছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় চিন্তাধারা, ব্যঙ্গ ও সৃজনশীলতা আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখেও বৈধ হতে পারে তা প্রমাণিত হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এটি আন্তর্জাতিক কর্পোরেট হেজিমনির বিরুদ্ধে সাহসী অবস্থান হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ