প্রকাশ: রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৩:৫৬ পিএম

নওগাঁ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক সামসুল হকের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীকে আপত্তিকর বার্তা ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তার পাঠানো মেসেজের স্ক্রিনশট কলেজের প্রধান ফটকে টাঙিয়ে দেন।
এতে কলেজ ক্যাম্পাসে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একই দিন সকাল ১১টায় শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। তারা অধ্যক্ষসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শিক্ষকের পদত্যাগ দাবি করে চার দফা আন্দোলন ঘোষণা দেন।
অধ্যক্ষ সামসুল হক ফেসবুকে দাবি করেছেন, তার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছিল। তিনি শিক্ষার্থীদের বিচলিত না হওয়ার অনুরোধ জানান। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া স্ক্রিনশটগুলোতে দেখা যায়, অধ্যক্ষ ছাত্রীদের সৌন্দর্যের প্রশংসা করছেন এবং ওড়না ছাড়া ছবি চাইছেন। এতে জেলার সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অভিভাবকরাও শিক্ষার পরিবেশ ও ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ভুক্তভোগী এক ছাত্রী জানান, দুই বছর আগে বিএমসি মহিলা কলেজে পড়ার সময় অধ্যক্ষ তার সঙ্গে ফেসবুকে যোগাযোগ করেন এবং অশ্লীল মন্তব্য করতেন। পরে তিনি ভয়ে বিষয়টি প্রকাশ না করে রাখেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক স্ক্রিনশট ভাইরাল হওয়ায় তিনিও সামনে এসে প্রতিবাদ জানান। আরেক ছাত্রী অভিযোগ করেন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর অধ্যক্ষ বারবার মেসেজ পাঠাতেন এবং সামনাসামনি অশালীন আচরণ করতেন।
এ ঘটনায় কলেজের অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আরমান হোসেন অভিযোগ করেন, অধ্যক্ষ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এখন নারী শিক্ষার্থীদের প্রতি অশ্লীল আচরণ প্রকাশ্যে আসায় কলেজ প্রশাসনের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাদনান সাকিব বলেন, শিক্ষকরা পিতার সমতুল্য। একজন অধ্যক্ষ যখন ছাত্রীদের সঙ্গে এভাবে আচরণ করেন, তখন তিনি শিক্ষকতার মর্যাদা হারান।
শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, অধ্যক্ষ সামসুল হক পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। তাদের দাবি, এমন বিতর্কিত ব্যক্তির হাতে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ নয়। অন্যদিকে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি মন্তব্য করতে চান না। তবে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের তিনি প্রতিপক্ষ নয়, শিক্ষার্থী হিসেবেই দেখেন। ঘটনাটি নিয়ে এখন পুরো জেলায় ব্যাপক আলোচনা চলছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ