
যশোর-৫ আসন
আসন্ন ত্রয়োদশ নির্বাচনে যশোর-৫ মণিরামপুর আসনে প্রার্থী জটে ভুগছে বিএনপি এর মধ্যে আরো ভাবনায় আছে বিএনপি জোট তবে নিশ্চিন্তে জামায়াত। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৫ আসন (মণিরামপুরে) প্রধানতম রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির মনোনয়ন কে পাবেন তাই এখন আলোচনার প্রধান বিষয়বস্তু। বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন চাইতে পারেন এমন অন্তত ছয়জন নেতার নাম লোকমুখে প্রচারিত হচ্ছে।
যশোর-৫ থেকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন লড়াইয়ে যারা এগিয়ে রয়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন দলের উপজেলা কমিটির সভাপতি শহীদ ইকবাল হোসেন। এর আগে তিনি দলের থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ছিলেন মণিরামপুর ইউপি চেয়ারম্যান এবং মণিরামপুর পৌরসভার দুইবারের চেয়ারম্যান। ১৯৯১ এবং ১৯৯৬ সালে দলীয় মনোনয়নে সংসদ নির্বাচন করারও অভিজ্ঞতা রয়েছে এই নেতার। তবে, বিজয়ী হতে পারেননি। এবার দলীয় মনোনয়ন পেলে সেই অপূর্ণতা দূর করতে ব্যাপক সক্রিয় হয়েছেন তিনি। তিনি দলের প্রায় প্রতিটি কর্মসূচিতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ছুটে যাচ্ছেন সাধারণ ভোটারদের কাছে।
এছাড়াও উপজেলা কমিটির সাবেক সভাপতি, জেলা কমিটির সদস্য এবং মণিরামপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মুছা তিনিও তৃণমূলের নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষের সাথে রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত। তিনি ধানের শীষ প্রতীক পেতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। সেই সাথে ব্যাপক গণসংযোগ ও দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
এছাড়া, যশোর-৫ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপির অন্য নেতারা হলেন, দলের যশোর জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক এরশাদ বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু, সাবেক ছাত্রদল নেতা ও বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা ইফতেখার সেলিম অগ্নি এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান মিন্টু। তাদের মধ্যে মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু এই আসনের সাবেক এমপি, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক প্রয়াত আফসার আহমদ সিদ্দিকীর ছেলে। এছাড়াও জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু অথবা সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকনের যে কেউ প্রার্থী হওয়ার দৌঁড়ে সামিল হতে পারেন।
বিএনপির এই দলীয় মনোনয়ন লড়াইয়ের মধ্যে ঘুরেফিরে আসছে মুফতি আব্দুর রশিদের নাম। তিনি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব। তবে, যশোর-৫ আসন তথা মণিরামপুরবাসীর কাছে তার সবথেকে বড় পরিচয় তিনি ‘ওয়াক্কাস হুজুরের’ ছেলে। তার পিতা মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস এই আসন থেকে তিনবার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। জাতীয় সংসদের হুইপ ছাড়াও তিনি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন। এলাকার মসজিদ, মাদ্রাসাসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নে মুফতি ওয়াক্কাসের অসামান্য অবদান রয়েছে। সে কারণে প্রয়াত এই নেতাকে এখনো স্মরণে রেখেছে মণিরামপুরবাসী। তার সাথে যুক্ত হয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব ড. গোলাম মহিউদ্দিন ইকরামের ঘোষণা।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মণিরামপুর আসনের নির্বাচনে আগ্রহী নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, যশোরের রাজনীতিতে ভ্রাতৃত্ব বোধ ও সৌন্দর্য ছিল। যা বিগত ফ্যাসিস্ট আমলের ১৬ বছরে আওয়ামী লীগ ধ্বংস করে দিয়েছে। মানুষের সামাজিক এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কও রাখেনি তারা। সৌহার্দ্য আর সম্প্রীতির জায়গায় তারা হিংসার আগুন জ্বালিয়েছে। আমরা এই অবস্থান থেকে উত্তরণ চাই। বিএনপি কেন্দ্রীয় কমান্ড আমাদের মধ্যে যাকেই নির্বাচনে মনোনয়ন দেবেন আমরা তার পক্ষেই কাজ করতে চাই।
তবে আসনটিতে একেবারেই নির্ভার জামায়াতে ইসলামী। এই আসনে তাদের প্রার্থী দলের জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক। কবি, লেখক এবং ইসলামি বক্তা হিসেবে তার সুপরিচিতি রয়েছে। তিনি ২০১৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দিতা করেছিলেন। সেসময় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়। দলীয় প্রভাব ও প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও সেবার অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক প্রচুর ভোট পেয়েছিলেন।
অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল বলেন, “দেশের এই পরিস্থিতিতে আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে বোঝাচ্ছি। ক্ষমতায় গেলে আমরা যে কাজগুলো করতে চাই সে সম্পর্কেও বলছি। পাশাপাশি আমি ব্যক্তিগতভাবে উপজেলাবাসীকে দল-মত, ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করছি।”
তিনি বলেন, “মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ দূর হয়ে যতবেশি ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হবে তত বেশি হানাহানি বা হিংসাত্মক কার্যক্রম কমে আসবে। দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। সে কারণে কর্মী সম্মেলন, দায়িত্বশীল সমাবেশগুলোতে এ বিষয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি জাগপা থেকে প্রার্থী হচ্ছেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য, যশোর জেলা কমিটির সভাপতি এবং খুলনা বিভাগীয় প্রধান সমন্বয়ক নিজামদ্দিন অমিত। তিনি এই আসন থেকে দলের প্রার্থী হিসেবে ২০১৮ সালের নির্বাচনেও অংশ নিয়েছিলেন।”
নিজামদ্দিন অমিত বলেন, “২০১৮ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি প্রতিদ্বন্দিতা করেছিলাম। আমরা দলীয় কর্মকাণ্ড শুরু করেছি। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তার বন্দুকের নলের সামনে দ্বারিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করা খুব কঠিন ছিল। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে বারবার মিথ্যা মামলার আসামি হয়েছি, জেল খেটেছি, বাড়ি ছাড়া হয়েছি। আমি বিশ্বাস করি, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোট আমাদেরকে মূল্যায়ন করবে এবং যশোরে একটি আসন আমাদেরকে দিবে।”
এদিকে, যশোর-৫ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী ঘোষণা করেছে দলের মণিরামপুর উপজেলা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা জয়নাল আবেদীন টিপু মাস্টারকে। খেলাফত মজলিসের প্রার্থী দলের মণিরামপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি মাওলানা তবিবর রহমান।
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো/ওএফ