
নওগাঁ-১ আসন
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরগরম হয়ে উঠেছে নওগাঁ-১ আসনের রাজনীতি। ইতোমধ্যে ভোটের প্রচার প্রচারনা শুরু করেছেন রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা। পোরশা, সাপাহার ও নিয়ামতপুর এই তিন উপজেলা নিয়ে গঠিত ৪৬ নওগাঁ-১ আসন। দীর্ঘদিন ধরে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নির্বাচনী এলাকায় নিজেদের প্রার্থিতার কথা জানান দিয়ে গণসংযোগ, সভা ও সমাবেশ করে চলেছেন।
নির্বাচনি এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর নাম ঘোষণা করলেও বিএনপিসহ অন্য কোনো রাজনৈতিক দল এখনো দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। নেতাকর্মীরা জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন বেশ সরবে। রাজনীতির মাঠে রয়েছে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন ও গণঅধিকার পরিষদ। মাঠে নেই আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও এনসিপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল। ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত ছিল নওগাঁ-১ আসন। আসনটি গত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দখলে যায় আওয়ামী লীগের ঘরে। এরপর লম্বা সময় এক তরফা রাজত্ব করেছে আওয়ামী লীগ।
নওগাঁ জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, এই আসন ২০ টি ইউনিয়ন ও ৮৮ টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত,এই আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৮৫ হাজার ৮৯ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩ লাখ ৪ হাজার ৫৩২ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৮০ হাজার ৫৬৯ জন।
বিএনপি এখনও দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। এই আসনে বিএনপির সম্ভাব্য হাফ ডজন প্রার্থী নিজেদের জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে কয়েক মাস ধরে প্রচার চালাচ্ছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই জোরেশোরে নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ ও সভা-সমাবেশ করছেন। মাঠ পর্যায়ে এই দুই দল ব্যতীত অন্য দলের তেমন উল্লেখযোগ্য প্রচার এ আসনে লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
নওগাঁ-১ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী আছেন ৬ জন। তারা হলেন- তিন বারের সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. ছালেক চৌধুরী, নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান, পোরশা বিএনপির সভাপতি মোজাম্মেল হক চৌধুরী, পোরশা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক লায়ন মো. মাসুদ রানা, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য প্রকৌশলী খালেদ হাসান চৌধুরী ও সাবেক সদস্য কেন্দ্রীয় যুবদল মাহমুদুস সালেহীন।
এদিকে মাঠে সরব রয়েছেন জামায়াতের একক প্রার্থী অধ্যক্ষ মো. মাহবুবুল আলম। তিনি সাপাহার আল-হেরা ইসলামী একাডেমির অধ্যক্ষ। জামায়াতের মনোনিত এই একক প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছিল অনেক আগেই। জামায়াতের কর্মী সমর্থকরা একক প্রার্থীর পক্ষে গণসংযোগ, সভা ও সমাবেশ করে যাচ্ছেন।
নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসলামী আন্দোলনের মনোনিত প্রার্থী প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ পোরশা উপজেলা শাখার মাও. আব্দুল হক শাহ্ চৌধুরী নেতা কর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। করছেন সভা ও সমাবেশ।
এ আসনের রাজনীতি মূলত বিএনপি ও জামায়াত ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের তৎপরতায় এই দুই দলের সক্রিয়তা বর্তমান প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে দৃশ্যমান। নির্বাচনী তপশিল ঘোষণার পর যদি অন্য দলগুলো মাঠে নামে, তখন প্রতিদ্বন্দিতা আরও জমে উঠবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
যুবদলের সাবেক সদস্য মাহমুদুস সালেহীন বলেন, “মানুষ এখন পরিবর্তন চাচ্ছে, বর্তমান যে আবহাওয়া বইছে, রাজনীতি মানে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনা, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা। বিএনপি বড় দল। মনোনয়ন নিয়ে প্রতিযোগিতা থাকবে, এটিই স্বাভাবিক। তবে দল যাকে মনোনয়ন দেবে সবাই তাঁর জন্য কাজ করবে। এর বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”
নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “আমি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীতা করেছি। এর ধারাবাহিকতায় আগামী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ-১ আসনের একজন মনোনয়ন প্রত্যাশী। ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে আপামর জনসাধারণের সাথে বিএনপির রাজনীতি করে আসছি। ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের আমলে বিএনপির হাল ধরে নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহারে বিএনপিকে সুসংগঠিত করতে সর্বাত্বক কার্যক্রম পরিচালিত করেছি।”
পোরশা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক লায়ন মো. মাসুদ রানা বলেন, “আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রচার-প্রচারণা ব্যাপকহারে চলতেছে,এবং বর্তমান নওগাঁ-১ আসনের মাঠ ৭৮% বিএনপির দখলে আছে। এই আসনের মানুষ চায় সৎ, শিক্ষিত,এবং ত্যাগী নেতা এখানে আসুক যিনি সবার সেবা করতে পারবে। আমি সেই প্রেক্ষাপট থেকেই কাজ করে যাচ্ছি। মনোনয়ন নিয়ে প্রতিযোগিতা থাকবে, এটিই স্বাভাবিক। তবে দল যাকে মনোনয়ন দেবে সবাই তাঁর জন্য কাজ করবে।”
সাবেক সাংসদ ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. ছালেক চৌধুরী বলেন, “আমি এলাকার আপামরসাধারণ মানুষের সাথে নিয়োমিত গণসংযোগ করে আসছি এবং তাদের সুখে ও দুখে পাশে থেকেছি। বিগত সময়ে মানুষের আস্থা আর ভালবাসা নিয়ে তিনবার সংসদ সদস্য হয়ে এলাকার রাস্তা-ঘাট, মসজিদ-মন্দির, স্কুল-কলেজসহ এলাকার অধিকাংশ কাঁচা রাস্তা পাকা করনের উন্নয়ন করেছি। আমার নির্বাচনী এলাকা ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত করতে চাই। আমি এবারও আগামী ত্রয়োদশ নির্বাচনের মনোনয়ন প্রত্যাশী।”
নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহারে নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপি ও জামায়াতই সবচেয়ে বেশি সক্রিয় দেখা যাচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, তৃণমূল পর্যায়ে এই দুই দল দীর্ঘদিন ধরে কাঠামোগত সংগঠন ধরে রাখতে পেরেছে বলেই এত দ্রুত মাঠে নামতে পেরেছে।
তাছাড়া নতুন আত্মপ্রকাশ করা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন কিংবা এবি পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা চোখে পড়েনি।
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো/ওএফ