
ফাইল ছবি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে বিজয়ী ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেছেন, আজকে ক্যাম্পাসে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিজয় হয়নি। এই বিজয় জুলাই বিপ্লবের পক্ষের সকল শক্তির। এ বিজয় নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিঃস্বার্থ প্রাণ বিলিয়ে দেয়া সকল শহীদের।
বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে ডাকসু নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে ভিপি নির্বাচিত হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, 'আলহামদুলিল্লাহ' এই বিজয় জীবন্ত শহীদ হয়ে বেঁচে থাকা অঙ্গহারা হাজারো গাজী বীরদের। এই বিজয় এক স্বপ্নের ক্যাম্পাস গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীর।
তিনি সেখানে আরও বলেন, এই বিজয় শহীদের রক্তের ঋণ, এই বিজয় আমাদের উপর শিক্ষার্থীদের অর্পিত পবিত্র আমানত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে তাই আমি দৃঢ় অঙ্গীকার করছি- সকল দল, মত, পথ, বিশ্বাস ও পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধ ভাবে স্বপ্নের ক্যাম্পাস গড়ে তুলার এই যাত্রায় আমরা কারো কাছে মাথানত করবো না।
জয় পেয়েছেন জুলাইয়ে চোখ হারানো জসীম
ডাকসু নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয় পেয়েছেন জুলাই অভ্যুত্থানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অঙ্গহানি হওয়া একমাত্র শিক্ষার্থী খান জসীমউদ্দিন। তিনি ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী’ প্যানেল থেকে আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদে বিপুল ভোটে জয় লাভ করেন। তিনি ৯ হাজার ৭০৬ ভোট পেয়েছেন এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোহাম্মদ সাকি পেয়েছেন মাত্র ৩ হাজার ৯২২ ভোট।
ডাকসুতে স্বামী-স্ত্রীর একসাথে জয়
ডাকসু নির্বাচনে একইসঙ্গে জয় পেয়েছেন শিবির সমর্থিত প্যানেলের এক দম্পতি। ডাকসুর ইতিহাসে স্বামী-স্ত্রীর প্রার্থী হওয়ার নজির নেই। বিজয়ী দম্পতির নাম রায়হান উদ্দীন ও উম্মে ছালমা। এর মধ্যে রায়হান উদ্দীন কার্যকরী সদস্য পদে ৫০৮২ ভোট ও উম্মে ছালমা কমন রুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া বিষয়ক সম্পাদক পদে ৯ হাজার ৯২০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
জয়ের পর এই দম্পতি বলেন, ‘আমরা আল্লাহর কাছে শোকরিয়া জানাতে চাই, আলহামদুলিল্লাহ। আমরা উদযাপন করতে চাই না। আমাদের কার্যক্রমই হবে উদযাপন। এটিকে আমরা কোনো অর্জন মনে করি না। এটি অর্জন হবে সেদিনই- যেদিন আমরা দায়িত্ব শেষ করবো, সেদিন শিক্ষার্থীরা যদি বলে, তোমরা ভাল কাজ করেছো- সেদিনই হবে আমাদের উদযাপনের সময়।’
জয় পেয়েছেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী রাইসুল
ডাকসুতে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে নির্বাচন করে জয় পেয়েছেন শিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের রাইসুল ইসলাম। তিনি ৪ হাজার ৫৩৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। ছয় বছর বয়সে সে দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন। ২০১৯ সাল থেকে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রাইসুল। ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে সামনে থেকে কাজ করেছেন, জুলাই অভ্যুত্থােেনও রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
তিনি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করছেন এবং সর্বশেষ ফিজিক্যালি-চ্যালেঞ্জড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (PDF)-এর সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও রাইসুল বিতর্ক ও কুইজ চর্চায়ও সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছেন। তিনি বিজয় একাত্তর হল ডিবেটিং ক্লাবের সহ-সভাপতি এবং সমাজবিজ্ঞান ডিবেটিং সোসাইটির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো