
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ভোটগ্রহণ মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টায় শুরু হয়েছে। একই দিন বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারীদের যথাযথ নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার জন্য বিবেক খাটানোর আহ্বান জানিয়েছেন ছাত্রদল মনোনীত সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে গিয়ে বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর ডাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন করে গণতন্ত্রের দরজা খুলছে। এ সুযোগে প্রত্যেক শিক্ষার্থী যেন নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে এবং সঠিক নেতৃত্ব বেছে নেয়।’ কেউ ভোট দিতে বসে না থাকার অনুরোধ জানান তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত। ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা, গণভ্যুত্থান এবং মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের সব বাঁকবদলে এ সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ কারণে ডাকসুকে ‘দ্বিতীয় সংসদ’ বলা হয়। এবারের ৩৮তম ডাকসু নির্বাচন নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং এতে রেকর্ডসংখ্যক প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন।
এবারের নির্বাচনে ২৮টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ৪৭১ জন প্রার্থী, যার মধ্যে ৬২ জন নারী। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলে ১৩টি পদে মোট ১ হাজার ৩৫ জন প্রার্থী লড়াই করছেন। নির্বাচনে অংশ নিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্যানেল, যেমন ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, বাগছাস, ছাত্র অধিকার পরিষদ, বামপন্থি ছাত্র সংগঠনগুলো এবং বেশ কিছু স্বতন্ত্র প্রার্থী।
মোট ভোটার সংখ্যা ৩৯ হাজার ৭৭৫ জন, যার মধ্যে ছাত্র ২০ হাজার ৮৭৩ এবং ছাত্রী ১৮ হাজার ৯০২। ভোটাররা ৮টি কেন্দ্রে ৮১০টি বুথে মোট ৪১টি পদে ভোট প্রদান করবেন। ভোটগ্রহণ শেষে তাৎক্ষণিকভাবে অপটিক্যাল মার্ক রিকগনিশন মেশিনে ফল গণনা শুরু হবে এবং প্রতিটি কেন্দ্রের বাইরে এলইডি স্ক্রিনে ফল প্রদর্শিত হবে। সর্বশেষ ফলাফল ঘোষণা করা হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে।
নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জোরদার করেছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ৮টি প্রবেশপথে নিরাপত্তা চৌকি স্থাপন করা হয়েছে। মোবাইল প্যাট্রল, ডগ স্কোয়াড, বিশেষায়িত টিম, সোয়াত টিম, ডিবি ও সিসিটিভি মনিটরিংসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনী দায়িত্ব পালন করছে।
নির্বাচনে মূলত তিনটি প্যানেলের প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা দেখা যাচ্ছে- ছাত্রদল, ছাত্রশিবির এবং বাগছাস। এর পাশাপাশি উমামা ফাতেমা ও বামজোট সমর্থিত প্রার্থী এবং কিছু স্বতন্ত্র প্রার্থীর নামও শিক্ষার্থীদের মাঝে আলোচিত।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নিয়েছে। শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের ভোটাধিকারের প্রয়োগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএমস