প্রকাশ: শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৪:০৫ AM

দক্ষিণ কোরিয়ার ওনজু শহরে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে আইসিইউতে ভর্তি আছেন কুমিল্লার রাজিদ আয়মান (২০) ও হাসিবুল হাসান চৌধুরী (২১) নামে দুই শিক্ষার্থীসহ মোট তিনজন। দুর্ঘটনার ৮ দিনেও তাদের কেউ জ্ঞান ফিরে পাননি।
আহত রাজিদ আয়মান কুমিল্লার দেবিদ্বার পৌরসভার ফতেহাবাদ গ্রামের নান্নু মিয়া মাস্টারের ছেলে এবং হাসিবুল হাসান চৌধুরী একই উপজেলার ধামতী ইউনিয়নের ধামতী গ্রামের ওমর ফারুক চৌধুরীর ছেলে। দুর্ঘটনা ঘটেছে গত ২৭ আগস্ট রাত ১১টার দিকে। তিনজনই আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং বর্তমানে আইসিইউতে রাখা হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রাজিদ ও হাসিবুল বন্ধু। দেশেই পড়াশোনায় মেধা তালিকায় শীর্ষে ছিলেন। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন পূরণের জন্য ২০২৪ সালে তারা দক্ষিণ কোরিয়ার কিউংডং বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ বিভাগে ভর্তি হন।
দুর্ঘটনা ঘটে শুক্রবার রাতে, রাজিদ ও হাসিবুল বাজার থেকে বাসায় ফেরার পথে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অপর বড় ভাই শিহাব তাদের বাসায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য স্কুটি চালাচ্ছিলেন। কিছুদূর যাওয়ার পর স্পিডব্রেকারে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিনজন রাস্তায় ছিটকে পড়েন। এতে তিনজনই গুরুতর আহত হন। আহত অপরজন শিহাব।
রাজিদ আয়মানের বাবা নান্নু মিয়া বলেন, “ছোটবেলা থেকেই আমার ছেলের স্বপ্ন ছিল বিদেশে উচ্চশিক্ষা নেওয়া। আমি অনেক কষ্টে টাকা ম্যানেজ করে তাকে সেখান পাঠাই। দুর্ঘটনার পর তাকে আইসিইউতে ভর্তি করতে হয়েছে। এখনও তার জ্ঞান ফিরেনি।”
হাসিবুল হাসানের বাবা ওমর ফারুক চৌধুরী কেঁদে বলেন, “ছেলেকে অনেক কষ্ট করে কোরিয়ায় পাঠিয়েছি। কিন্তু দুর্ঘটনার কারণে সে আইসিইউতে। চিকিৎসার ব্যয় বহন করা কঠিন হলেও আমরা আশা হারাইনি। দেশের মানুষ যেন তাদের জন্য দোয়া করে।”
উল্লেখ্য, দুর্ঘটনায় আহত তিন শিক্ষার্থীরই অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং চিকিৎসার জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ