প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৭:৪৭ পিএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রদল নেতার নারী শিক্ষার্থীদের ‘যৌনকর্মী’ বলে কটূক্তি, সারাদেশে নারী হেনস্তা এবং ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির প্রতিবাদে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রশিবির মানববন্ধন করেছে।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি।
মানববন্ধনে শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইউসুব আলী, অর্থ সম্পাদক শেখ আল আমিন, ছাত্র অধিকার বিষয়ক সম্পাদক জাকারিয়া হোসেন ও আন্তর্জাতিক ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট বিষয়ক সম্পাদক হাসানুল বান্না আলি-সহ সংগঠনটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ইবি শিবিরের ছাত্র অধিকার সম্পাদক জাকারিয়া হোসেন বলেন, ‘৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে নতুন বাংলাদেশে ছাত্রদল গণধর্ষণের মহোৎসব শুরু করেছে। তারা বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ করিয়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে। আমরা ভেবেছিলাম একটি নিরাপদ বাংলাদেশ পাবো, যেখানে মা-বোনেরা সুরক্ষিত থাকবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, ছাত্রলীগের মতোই ছাত্রদলও ধর্ষণ ও সহিংসতার মহোৎসব শুরু করেছে। এমনকি জুলাই শহীদের মেয়েও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছে এবং বিচার না পেয়ে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে। নতুন বাংলাদেশ যাদের রক্তের বিনিময়ে এসেছে, তাদের সাথেই যদি এমনটা ঘটে, তবে সাধারণ মানুষের অবস্থা কী হবে তা সহজেই অনুমেয়।’
শাখা সেক্রেটারি ইউসুব আলী বলেন, ‘ছাত্রদল নতুন বাংলাদেশকে তাদের পৈতৃক সম্পত্তি মনে করছে। রাজশাহীতে এক নেতা ৯১ জন ছাত্রীকে ‘যৌনকর্মী’ বলেছে, ঢাকায় এক ছাত্রীকে ‘সেবাদাসী’ বলে কটূক্তি করেছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর বিএনপি নেতারা হামলার উসকানি দিয়েছে। এমনকি ঢাবির আলী হাসান নামের এক শিক্ষার্থী শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত না থেকেও ছাত্রদলের প্রতি মায়া দেখিয়ে পোস্ট করেছিল, অথচ প্রশাসনের কাছে তার শাস্তির দাবি জানিয়েছি আমরা।’
তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্রদল এখন আদর্শিক রাজনীতি ছেড়ে পেশিশক্তির রাজনীতি বেছে নিয়েছে। তাদের অফিসিয়াল পেজ থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় ‘একটা একটা শিবির ধর, ধইরা ধইরা জবাই কর’-এমন স্লোগান দিচ্ছে, যা ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী রাজনীতিরই প্রতিফলন। তারা আবারও নব্বইয়ের সন্ত্রাসী রাজনীতিতে ফিরে যেতে চাইছে। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা যদি এমন নোংরামি রাজনীতি অব্যাহত দেখে, তাহলে অবশ্যই ছাত্রদলকে লাল কার্ড দেখাবে। আমরা এমন ক্যাম্পাস চাই যেখানে শিক্ষার্থীরা নিরাপদে থেকে পড়াশোনার পরিবেশ বজায় রাখতে পারবে।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম