
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নওগাঁ-৫ (নওগাঁ সদর ) আসনেও বইছে ভোটের হাওয়া। নওগাঁ জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায় উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই আসনের ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৪৬ হাজার ২০৫ জন। তার মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৭২ হাজার ৪২৩ জন এবং নারী ১ লাখ ৭৩ হাজার ৭৭৯ জন।
নওগাঁর ১১টি উপজেলা নিয়ে ৬টি সংসদীয় আসন। বিএনপি, এনসিপি, গণ অধিকার পরিষদ ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা না করলেও জামায়াতে ইসলামী নওগাঁর ৬ আসেনেই তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। জামায়াতের মনোনীত প্রার্থীরা ছাড়াও বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ও গণ অধিকার পরিষদের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মাঠ পর্যায়ে, গ্রামে-গঞ্জে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন। কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি নিজের বিষয়ে জানান দিচ্ছেন তারা। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে এই আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন নিয়ে বিজয়ী হন শামসুদ্দিন আহমেদ।
নওগাঁ-৫ (নওগাঁ সদর) নিয়ে গঠিত। এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেতে সরব রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নজমুল হক এবং জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ২০১৮ সালে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম ধলু।
এই আসন থেকে বিএনপির টিকিট পেতে আরও সরব রয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক, সদস্য সচিব বায়েজিদ হোসেন, ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপন এবং জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান তুহিন।
জেলা বিএনপির সভাপতি আবুবক্কর সিদ্দিক নান্নু বলেন, ‘বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল। এখানে মনোনয়নপ্রাপ্তি নিয়ে প্রতিযোগিতা থাকবে, এটি স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। তবে শেষ পর্যন্ত দল যাকে মনোনয়ন দেবে, সবাই তার পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সকল নেতাকর্মী দলের স্বার্থে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে একতাবদ্ধ থাকবেন।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ-৫ ( নওগাঁ সদর ) এই আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মামুনুর রহমান রিপন বলেন, ‘রাজনীতি আমার পেশা না, রাজনীতি আমার নেশা। আমি কিছু পাওয়ার আশায় রাজনীতি করিনা, আমি রাজনীতি করি সাধারণ মানুষের পাশে থেকে তাদের সেবার করার লক্ষ্যে।
তিনি আরও বলেন, ‘দলের সবচেয়ে বেশি কারাবন্দী ও কারানির্যাতিত নেতা আমি। আমি দলের জন্য বহুবার কারাবন্দী হয়েছি, গত অক্টোবরে ঢাকার রাজপথ থেকে গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘ ৯৪ দিন কারাবন্দী ছিলাম, আমি জেল জুলুম রিমান্ড এগুলোর ভয় করিনা। আমি দলের সুসময় এবং দু:সময়ে পাশে ছিলাম বর্তমানে আছি এবং থাকবো ইনশাআল্লাহ। নওগাঁ বাসির সেবা করার মাধ্যমে, তাদের ভালোবাসা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চাই। দলের জন্য বহুবার কারাবন্দী হয়েছি ও নির্যাতিত হয়েছি। আমার বিশ্বাস বিএনপি আমার ত্যাগ বিবেচনা করে আমাকেই ধানের শীষের জন্য চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবে।’
জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও টানা ৩ বারের সাবেক মেয়র নজমুল হক সনি বলেন, ‘দলের জন্য আমি একজন নিবেদিত প্রাণ। এ ছাড়া পৌরবাসীর জন্য কাজ করেছি মেয়র হয়ে। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে নির্বাচিত হয়ে এ আসনের আরও উন্নয়নমূলক কাজ করার সুযোগ পাব।’
তিনি আরও বলেন, ‘নওগাঁর মাটি ও মানুষের সাথে আমার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে যার কারণে আমি দলের দু:সময়েও তিন তিন বার নওগাঁ পৌর মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছি। আমি বিশ্বাস করি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি মনোনয়ন পেলে শুধু পৌরসভা নয় জেলার ৬ টি আসন উদ্ধার হবে এবং সেই ৬ টি আসনেই বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হবে।’
এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আ স ম সায়েমকে দলের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। নওগাঁ জেলা গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান নওগাঁ সদরের মনোনয়ন প্রত্যাশী এবং মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন। এ আসনে এবি পার্টি থেকে কাজী আতিকুর রহমানের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
নওগাঁয় এ পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপি ও জামায়াতই সবচেয়ে বেশি সক্রিয় দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ের পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূল পর্যায়ে এই দুই দল দীর্ঘদিন ধরে কাঠামোগত সংগঠন ধরে রাখতে পেরেছে বলেই এত দ্রুত মাঠে নামতে পেরেছে। তবে জেলার ৬টি আসনের প্রতিটিতে জামায়াতের একক প্রার্থী থাকলেও বিএনপিতে একাধিক গ্রুপিং রয়েছে। বিএনপি, জামায়াত ও গণ অধিকার পরিষদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের দেখা গেলেও নতুন আত্মপ্রকাশ করা জাতীয় নাগরিক পার্টি, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন কিংবা এবি পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা চোখে পড়েনি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম