বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
আইনশৃঙ্খলা সভায় হট্টগোল, তর্কে জড়ালেন এমপি হান্নান      লাতিন আমেরিকার দুই দলকে হারাল জাপান-কোরিয়া      কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ৫১ কিশোর আটক      প্রথম ১৪ ওয়ানডেতেই ইতিহাস গড়লেন ম্যাথু ব্রিটজকে      ২৫ সেপ্টেম্বরের মুর্তজা কিজিলবাশের কনসার্ট স্থগিত      অঙ্কন-নন্দিতার দ্বৈত কণ্ঠে আজ প্রকাশিত হচ্ছে ‘মথুরা’      ফোটন সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন      জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কমিটি      ফেনীতে দাঈ সম্মেলন অনুষ্ঠিত      জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গাজী নজরুলের আরও ৪ দিনের রিমান্ড      সৌদিতে ড্রোন-মিসাইল হামলার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি      সহকারী সার্জন ও ডেন্টাল সার্জন পদে ৫ হাজার নিয়োগ      
মেঘনায় বেপরোয়া বালু উত্তোলন, হুমকির মুখে নৌ বন্দর
বাবুল সিকদার, আশুগঞ্জ
প্রকাশ: রবিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৫, ১২:৫২ পিএম আপডেট: ০১.০৯.২০২৫ ৫:৪৭ PM
নদীর তলদেশ ও তীর একসাথে ভেঙে পড়ছে

নদীর তলদেশ ও তীর একসাথে ভেঙে পড়ছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মেঘনা নদী থেকে বেপরোয়াভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ভয়াবহ নদী ভাঙনসহ মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে আশুগঞ্জ নৌবন্দর এলাকা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ তীরবর্তী এলাকা হুমকির মুখে পড়েছে।
 
স্থানীয়দের অভিযোগ, আশুগঞ্জ বন্দর এলাকা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিকটবর্তী মেঘনা নদীতে দিন-রাত ড্রেজার বসিয়ে বেপরোয়া বালু তোলার ফলে নদীর তলদেশ ও তীর একসাথে ভেঙে পড়ছে, যা যেকোনো সময় ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

জানা যায়, গত ২০ আগস্ট ঢাকা-সিলেট করিডোর মহাসড়কের বালুর চাহিদার কথা বিবেচনা করে মহাসড়কের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিগো মীর আক্তারের প্রতিনিধি ‘এ২ বি’ কর্পোরেশনকে তিন মাসের জন্য মেঘনা নদীর বিদ্যুৎকেন্দ্র সংলগ্ন এলাকা থেকে বালু তোলার অনুমতি দেয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে লাল নিশান দিয়ে সীমানাও নির্ধারণ করে দেয়া হয়।

কিন্তু এলাকাবাসীর অভিযোগ, বালু উত্তোলনকারীরা প্রশাসনের দেয়া লাল নিশান উঠিয়ে ফেলে তারা বালু উত্তোলনের মহোৎসবে নেমে পড়ে। প্রতিদিন একসাথে ২০টিরও বেশি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নদী থেকে বালু তোলা হচ্ছে। নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে সরাসরি নদীর পাড়ে চলে আসা হচ্ছে। ফলে বন্দর এলাকাসহ, কৃষিজমি, বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। 

উল্লেখ্য, চরসোনারামপুর গ্রামে প্রায় পাঁচ হাজার জনগণের বসবাস। গ্রামটি এখন হুমকির মুখে। চরসোনারামপুরের পাশে নদীর পাড় দাঁড়িয়ে আছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ২৩০ কেভি বিদ্যুতের রিভার ক্রসিং টাওয়ার। বালু তোলার কারণে টাওয়ারের নিচের মাটি সরে যাচ্ছে।

স্থানীয় সামাজিক সংগঠনগুলো বলছে, এভাবে বালু তোলা চলতে থাকলে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেড ও আশুগঞ্জ শিল্পাঞ্চল ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হবে। ইতোমধ্যেই চরাঞ্চলে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। 

তথ্যানুসন্ধ্যানে জানা যায়, বিগত ২০২২ সালে তৎকালীন ইউএনও এ বিষয়ে তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছিলেন- চরসোনারামপুর ও আশপাশের এলাকা থেকে বালু উত্তোলন হলে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেড, আশুগঞ্জ বন্দর এলাকা, তীরবর্তী বাড়ি-ঘর ও কৃষিজমি নদী ভাঙনের শিকার হবে। একই মত প্রকাশ করেছিলেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ও। এরপরও সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন মাসের জন্য বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ।

আশুগঞ্জ জেনারেল মার্সেন্ট এন্ড কমিশন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম জারু বলেন, “এ অবস্থা চলতে থাকলে তীরবর্তী এলাকা তো বটেই, আশুগঞ্জ বন্দরও হুমকির মুখে পড়বে। আমরা ইজারা বাতিলের আবেদন করেছি, প্রয়োজনে আদালতের শরণাপন্ন হব।”

আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাফে মোহাম্মদ ছড়া বলেন, “মহাসড়কের ফোরলেন প্রকল্পের জন্য বালুর চাহিদা থাকায় তিন মাসের জন্য মীর আক্তারের প্রতিনিধিকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সীমানা অতিক্রম কিংবা চুক্তি ভঙ্গ হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অন্যদিকে মীর আক্তারের প্রতিনিধি কামাল আহমেদ জয় দাবি করেন, তারা ইজারার শর্ত মেনেই বালু উত্তোলন করছেন। তবে ভৈরবের একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে-যার দায় অন্যায়ভাবে তাদের ওপর চাপানো হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, “সরকারি দপ্তরের একাধিক প্রতিবেদনেই আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল যে, এ এলাকায় বালু তুললে ভয়াবহ ক্ষতি হবে। তারপরও অব্যাহতভাবে বালু উত্তোলন চালানো হচ্ছে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, আশুগঞ্জের মেঘনা নদীভিত্তিক শিল্প ও বিদ্যুৎ স্থাপনা দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ নির্বিচারে বালু কাটার কারণে এই অঞ্চলকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে জাতীয় গ্রিড মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।

স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে আশুগঞ্জে বিদ্যুৎকেন্দ্র, মহাসড়ক, শিল্পাঞ্চল ও হাজারো মানুষের বসতি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে, যার প্রভাব পড়বে জাতীয় অর্থনীতিতেও।


স্বদেশ প্রতিদিন/আইএমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  বিদ্যুৎকেন্দ্র   নৌ বন্দর   স্থাপনা  






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close