প্রকাশ: শনিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৫, ৫:৫১ পিএম

রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের পদ্মা নদী বেষ্টিত চরাঞ্চলের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ একটি মাত্র ব্রিজের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। স্থানীয় হিরু মোল্লার ঘাটে ব্রিজ নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের হলেও আশ্বাস ছাড়া কাজের কোনো অগ্রগতি হয়নি।
গত বছরের ডিসেম্বর মাসে মাটি পরীক্ষা শেষে প্রকল্পের কাজ শুরুর আশা জাগলেও সাত মাস কেটে গেলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে। চরাঞ্চলের মানুষ দ্রুত ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
রতনদিয়া ইউনিয়নের প্রায় অর্ধেক অংশই পদ্মার চরের ওপর অবস্থিত। এখানে রয়েছে তিনটি স্কুল, কয়েকটি হাট-বাজার ও হাজারো পরিবার। প্রতিদিন শত শত মানুষ হিরু মোল্লার ঘাট দিয়ে উপজেলা ও জেলার অন্যান্য স্থানে যাতায়াত করেন। কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে ভোগান্তির শেষ নেই।
শুষ্ক মৌসুমে হেঁটে বা যানবাহনে পার হওয়া গেলেও বর্ষায় নৌকা ছাড়া কোনো বিকল্প থাকে না। এতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, রোগী ও প্রসূতিদের জন্য দুর্ভোগ ভয়াবহ আকার ধারণ করে। কৃষিপণ্য বাজারজাত করতেও বড় সমস্যা দেখা দেয়।
স্থানীয় আজিজুল বেপারী অভিযোগ করে বলেন, “প্রতিবার বর্ষায় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় ব্রিজ হবে, কিন্তু শুকনো মৌসুম এলেই সব বন্ধ হয়ে যায়। এবার রড-সিমেন্ট আনা হলেও কাজ শুরু হয়নি।” যাত্রী রোজিনা আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ডাক্তারের কাছে যেতে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়। ব্রিজ হলে এই কষ্ট আর থাকত না।”
এ বিষয়ে কালুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহুয়া আফরোজ জানান, “নকশা পরিবর্তনের কারণে দেরি হয়েছে। বর্ষায় কাজ করা সম্ভব নয়, শুষ্ক মৌসুমে দ্রুতই কাজ শুরু হবে।”
তবে স্থানীয়রা আর আশ্বাসে আস্থা রাখতে পারছেন না। তাদের দাবি—দ্রুত কাজ শুরু করে বহু বছরের ভোগান্তি দূর করা হোক। একটি ব্রিজই পারে পদ্মার চরাঞ্চলের হাজারো মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনতে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ