প্রকাশ: শুক্রবার, ২২ আগস্ট, ২০২৫, ৫:৩৬ AM

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আশ্রয় প্রত্যাখ্যাত তৃতীয় দেশের নাগরিকদের গ্রহণে সম্মত হয়েছে আফ্রিকার দেশ উগান্ডা। তবে শর্ত হিসেবে জানানো হয়েছে, এসব আশ্রয়প্রার্থী যেন কোনো অপরাধে জড়িত না থাকে এবং তারা যেন একা আসা শিশু না হয়। চুক্তির কার্যপ্রণালি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) কাম্পালায় উগান্ডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করে। মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব ভিনসেন্ট বাগিরে ওয়াইসওয়া বলেন, এটি একটি “শর্তসাপেক্ষ অস্থায়ী ব্যবস্থা”। তিনি আরও জানান, আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে আফ্রিকান নাগরিকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে কি না তা স্পষ্ট নয়। তবে উগান্ডার মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আলোচনার কাজ শেষ হয়েছে এবং এখন কার্যকর করার বিস্তারিত প্রক্রিয়া নির্ধারণ চলছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ১৭ লাখ শরণার্থী আশ্রয় দিয়ে উগান্ডা আফ্রিকার সর্ববৃহৎ শরণার্থী গ্রহণকারী দেশ। নতুন এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশটি রুয়ান্ডা ও দক্ষিণ সুদানের পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আশ্রয়প্রার্থী গ্রহণে সমঝোতায় যাওয়া সর্বশেষ পূর্ব আফ্রিকান রাষ্ট্র হলো।
তবে ঘোষণার একদিন আগে উগান্ডার এক শীর্ষ কর্মকর্তা গণমাধ্যমে এই ধরনের খবর অস্বীকার করেছিলেন। তার দাবি ছিল, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িতদের গ্রহণের মতো অবকাঠামো উগান্ডার নেই। এ প্রসঙ্গে উগান্ডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি ওকেলো ওরিয়েম বলেন, “আমাদের শরণার্থী নীতি উদার হলেও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যাদের নিজ দেশেই গ্রহণ করা হয় না, তাদের আমরা কীভাবে স্থানীয় সমাজে অন্তর্ভুক্ত করবো—এটি একটি বড় প্রশ্ন।”
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা জোরদার করছে। এই প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িতদের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে, এমনকি দক্ষিণ সুদান ও এসওয়াতিনির মতো দেশেও অপরাধীদের পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ