প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট, ২০২৫, ৫:৪৮ AM

বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, সরকার রাষ্ট্রপতির ছবি থাকবে কি না তা নিয়েই বেশি ব্যস্ত, অথচ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বা জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মনোযোগী হচ্ছে না।
বুধবার (২০ আগস্ট) জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মাসুদ কামালের সঞ্চালনায় অনলাইন অনুষ্ঠান ‘অন্য মঞ্চে’ অংশ নিয়ে তিনি বলেন, “গত এক বছরে রাষ্ট্রকে ঐক্যবদ্ধ রাখা, প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা এবং ল অ্যান্ড অর্ডার ঠিক করার পরিবর্তে সরকার ছোটখাটো বিষয় নিয়ে কাজ করছে। রাষ্ট্রপতির পোর্ট্রেট সরানো হলো কেন— তা কেউ জানে না। যদি ‘নো পোর্ট্রেট’ নীতি থাকে, তাহলে প্রজ্ঞাপন দিয়ে জানানো উচিত।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, সরকার এখন পিসমিল ভিত্তিতে কাজ করছে, কিন্তু জনগণের আস্থা অর্জনের মতো কোনো রোডম্যাপ তৈরি করতে পারেনি। নির্বাচন, আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরির মতো মূল দায়িত্বগুলোতে এখনো কোনো অগ্রগতি নেই।
রুমিন ফারহানা আরও বলেন, সাধারণ মানুষ দ্রুত একটি রাজনৈতিক সরকার আসুক— এমন প্রত্যাশা করছে। কারণ, অরাজনৈতিক সরকারের শাসন তারা বিগত এক বছরে দেখে ফেলেছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের কথা বলা হলেও মানুষের মধ্যে অবিশ্বাস রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অনৈক্য, জামায়াতের পিআর পদ্ধতির দাবি, এনসিপির নিবন্ধন জটিলতা এবং মাঠপর্যায়ের সহিংসতা নির্বাচনের পরিবেশকে অনিশ্চিত করে তুলছে।
তার মতে, বিএনপির ভেতরেও মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা আইনশৃঙ্খলার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নেবে কি না তা নিয়েও জনমনে সন্দেহ রয়েছে। এসব কারণে “একটি স্মুথ ইলেকশন আশা করা কঠিন,” বলেন তিনি।
সরকারি মহল থেকে ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের আশ্বাস বারবার দেওয়া হলেও রুমিন ফারহানার মতে, এটি সরকারের নিজেদের আস্থাহীনতার বহিঃপ্রকাশ। তিনি বলেন, “নির্বাচন মানেই তো অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। সেটার আগে অতিরিক্ত বিশেষণ জুড়ে দেওয়া মানে আসলে মানুষের আস্থা না থাকা।”
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ