
সকালের এক কাপ ধোঁয়া ওঠা কফি অনেকের দিন শুরুর সঙ্গী। আবার গরমের দিনে এক গ্লাস বরফশীতল কফি বা কোল্ড ব্রুও এনে দেয় সতেজতা। তবে স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করলে গরম ও ঠান্ডা কফির মধ্যে কোনটি বেশি উপকারী—এ প্রশ্ন অনেকেরই।
গবেষণা ও পুষ্টিবিদদের মত অনুযায়ী, গরম ও ঠান্ডা—দুই ধরনের কফিরই কিছু আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তবে কোনটি আপনার জন্য বেশি উপযোগী, তা নির্ভর করতে পারে কফি তৈরির পদ্ধতি এবং ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার ওপর।
গরম কফিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বেশি?
গরম পানিতে কফি তৈরি করলে কফিবিন থেকে বিভিন্ন যৌগ দ্রুত বের হয়ে আসে। এ কারণে কিছু গবেষণায় গরম কফিতে ঠান্ডা কফির তুলনায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাত্রা বেশি পাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
কফিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। নিয়মিত পরিমিত কফি পান কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত বলেও বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। তবে কফি কোনো রোগের চিকিৎসা বা প্রতিরোধের একমাত্র উপায় নয়।
গরম কফির সুবাসও অনেকের কাছে স্বস্তিদায়ক। এক কাপ গরম কফির গন্ধ ও উষ্ণতা মানসিকভাবে সতেজ অনুভূতি দিতে পারে।
ঠান্ডা কফি কি পেটের জন্য ভালো?
কোল্ড ব্রু বা ঠান্ডা কফি তৈরির পদ্ধতি গরম কফির তুলনায় আলাদা। এতে কফি দীর্ঘ সময় ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়। ফলে এর স্বাদ ও রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যও কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।
অনেকের ধারণা, কোল্ড ব্রু তুলনামূলক কম তেতো ও কম অম্লীয় হওয়ায় সংবেদনশীল পেটের জন্য আরামদায়ক হতে পারে। বিশেষ করে গরম কফি পান করার পর যাদের অস্বস্তি বা বুকজ্বালা হয়, তারা কোল্ড ব্রুতে স্বস্তি পেতে পারেন।
তবে কোল্ড ব্রুতে অম্লতা গরম কফির তুলনায় ‘৭০ শতাংশ কম’—এমন নির্দিষ্ট দাবি সব ধরনের কফি বা প্রস্তুত প্রণালির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। অম্লতার মাত্রা কফির ধরন, বিন, পানি ও তৈরির পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে।
আসল বিষয় কফিতে কী মেশাচ্ছেন
গরম না ঠান্ডা—কোন কফি বেশি স্বাস্থ্যকর, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কফিটি কীভাবে তৈরি করছেন। অতিরিক্ত চিনি, কনডেন্সড মিল্ক, ফ্লেভারিং সিরাপ বা উচ্চ ক্যালরির ক্রিমার যোগ করলে কফির মোট ক্যালরি ও চিনি অনেক বেড়ে যেতে পারে।
তাই কফি পান করতে চাইলে অতিরিক্ত চিনি ও মিষ্টি উপকরণ এড়িয়ে চলা ভালো। ব্ল্যাক কফি বা কম চিনি দিয়ে তৈরি কফি তুলনামূলকভাবে কম ক্যালরির বিকল্প হতে পারে।
অর্থাৎ, সবার জন্য গরম বা ঠান্ডা—একটিকে এককভাবে ‘সেরা’ বলা যায় না। স্বাদ, আবহাওয়া, কফি তৈরির পদ্ধতি এবং ব্যক্তিগত সহনশীলতার ওপর ভিত্তি করে পছন্দ করা যেতে পারে। তবে যে ধরনের কফিই পান করুন না কেন, পরিমাণের পাশাপাশি তাতে অতিরিক্ত চিনি ও উচ্চ ক্যালরির উপাদান রয়েছে কি না, সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি