ঋণ খেলাপি হয়ে যাওয়া ব্যবসায়ীদের আবারও ঋণ পুনর্গঠনের সুযোগ দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিশেষ এই নীতির আওতায় এখন পর্যন্ত প্রায় ২৮০টি প্রতিষ্ঠান তাদের খেলাপি ঋণ পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত পেয়েছে। আরো এক হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠানের আবেদন যাচাই-বাছাই চলছে। যাদের ৫০ কোটি টাকার বেশি ঋণ খেলাপি রয়েছে, তারাই এই সুবিধার আওতায় পড়বে।
প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী, খেলাপি ঋণ নবায়নের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জমা দিতে হয়, যা অনেক সময় ব্যবসায়ীদের পক্ষে দেয়া সম্ভব হয় না। তাই ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা চলতি বছরের শুরুতে বিশেষ একটি কমিটি গঠন করে সহজ শর্তে ঋণ পুনর্গঠনের সুবিধা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এতে ডাউন পেমেন্ট মাত্র ১ শতাংশ, ঋণ পরিশোধে ৫ থেকে ১৫ বছর সময় এবং তিন বছরের গ্রেস পিরিয়ড দেওয়া হচ্ছে।
বড় অংশের খেলাপি ঋণ এমন প্রতিষ্ঠান থেকে এসেছে, যেগুলোতে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের শাসনামলে ব্যবসা থেমে গিয়েছিল বা করোনা ও ডলার সংকটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তালিকায় বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের ব্যবসাও রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ঋণ পুনর্গঠনের এই সুবিধা দিয়েই ব্যবসায় গতি ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে তারা।
এনার্জিপ্যাক গ্রুপ, বিল্ডট্রেড গ্রুপ, সৌরভ গ্রুপ, এরশাদ গ্রুপ, বেঙ্গল প্লাস্টিক, আবদুল মোনেম গ্রুপ, ওরিয়ন গ্রুপসহ বিভিন্ন বড় প্রতিষ্ঠান এই সুবিধা পেয়েছে। এনার্জিপ্যাকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ূন রশীদ বলেন, করোনা, ডলার সংকট ও সরকারের বিল বকেয়া থাকায় ঋণ খেলাপি হয়েছিল, এখন নতুন সুযোগে ব্যবসা ভালো হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, যদিও ঋণ পুনর্গঠনের ফলে ব্যাংকের তারল্য পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হবে, কিন্তু দীর্ঘ সময়ের জন্য ঋণের সময়সীমা বাড়ানোর ফলে সুদের হার বাড়তে পারে এবং অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তবে অনেক খেলাপি ঋণ দীর্ঘদিন ধরে আদায় করা যাচ্ছিল না, এখন কমপক্ষে কিছু টাকা ব্যাংক পাচ্ছে এবং গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে প্রায় ৫ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা মোট ঋণের প্রায় ২৭ শতাংশ। এক বছরে খেলাপি ঋণ প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে।