২০২৪ সালের জুলাই মাসে ব্রিটেনে ক্ষমতা গ্রহণ করে লেবার পার্টির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কেইর স্টারমারের নেতৃত্বাধীন সরকার। ওই সময় থেকে মাত্র ১৩ মাসে ইংলিশ চ্যানেল সাগরপথে ৫০ হাজারেরও বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছেন।
সর্বশেষ গত সোমবার আটটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ৪৭৪ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী ব্রিটেনে প্রবেশ করেছেন বলে মঙ্গলবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এটি একটি রেকর্ড পরিমাণ প্রবেশ। এর আগে এক বছরে এত সংখ্যক অভিবাসনপ্রত্যাশীর ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার ঘটনা ব্রিটেনে হয়নি।
২০২৪ সালের ৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া কেইর স্টারমার ও তার লেবার পার্টির সরকার মাত্র ১৩ মাস বা ৪০২ দিন ধরে ক্ষমতায় রয়েছেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র স্কাই নিউজকে জানান, ইংলিশ চ্যানেল পথে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আগমন রোধে সরকার ‘গুরুত্বপূর্ণ’ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, “ছোট ইঞ্জিনচালিত নৌকায় এসব মানুষের আগমন বন্ধ করতে হবে কারণ এটি জীবন ও সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।”
তিনি আরো বলেন, “ইংলিশ চ্যানেল রুটে মানব পাচারকারী গ্যাংগুলো নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তাদের আইনের আওতায় আনা নিশ্চিত করা হবে।”
সরকারের পরিকল্পনার মূল দুটি লক্ষ্য হলো মানব পাচারকারী গ্যাংদের আইনের আওতায় আনা এবং ইংলিশ চ্যানেল অঞ্চলে ছোট ইঞ্জিনচালিত নৌকার চলাচল বন্ধ করা। উভয় ক্ষেত্রেই সরকার সফল হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখপাত্র।
অন্যদিকে বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির এমপি ক্রিস ফিলিপ বর্তমান সরকারের অভিবাসন নীতি নিয়ে সমালোচনা করে বলেন, “লেবার সরকার অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছে, এজন্য কনজারভেটিভ সরকারের প্রয়োজন।”
উল্লেখ্য, ইংলিশ চ্যানেল হলো পশ্চিম ইউরোপের একটি সংকীর্ণ সাগর যা ফ্রান্স থেকে যুক্তরাজ্যকে আলাদা করে এবং উত্তর সাগরকে আটলান্টিক মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ফ্রান্সে এটিকে ‘লা মঁশ’ নামে ডাকা হয়। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৬২ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ২৪০ থেকে ৩৪ কিলোমিটারের মধ্যে পরিবর্তিত হয়। এটি ইউরোপীয় মহাসাগরের মধ্যে একটি ক্ষুদ্র অগভীর সাগর হিসেবে পরিচিত।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএএম