প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১২ আগস্ট, ২০২৫, ১২:৪১ পিএম

আমার শিক্ষকতার ১১ বছর পূর্ণ হলো। ১ বছর মাইলস্টোন কলেজে আর ১০ বছর লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজ -এ কাটলো।
এই ১১ বছরে নিজেকে শুধু বেতনভোগী অথর্ব শিক্ষক হিসেবে আবিষ্কার করেছি। দেখেছি এখানে একাডেমিক বিষয়ে কঠোর হলে শিক্ষার্থীরা আমাকে আরো অথর্ব এবং অযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করে। পরীক্ষার ডিউটিতে নকল করতে না দিলে আমাকে মারার হুমকি দেয়, কলেজ প্রশাসন এ ব্যাপারে নিছক পুতুল।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পরীক্ষার ডিউটিতে নকলকারীকে বহিষ্কার কিংবা শাস্তি দাবি করলে পরীক্ষা পরিচালনা কমিটি এবং কলেজ প্রশাসনকে দুর্ভিক্ষপীড়িত অসহায় অবস্থায় দেখেছি। প্রতিবাদে কখনো পরীক্ষা ডিউটি থেকে বাসায় চলে এসেছি তবুও তারা খুশি এজন্য যে আমার মতো বিপর্যয়সৃষ্টিকারী অযোগ্য শিক্ষক যে বাড়ি ফিরে গেছে এটা আনন্দের কথা।
এখানে বহু শিক্ষককে দেখেছি সুবিধাভোগী চাটুকার দালাল রূপে। শিক্ষক হিসেবে তারা আমার চেয়ে নিকৃষ্ট এটা আমার জন্য কষ্টের। পাশাপাশি হাতেগোনা আদর্শিক, একাডেমিক বিষয়ে কঠোর যথার্থ শিক্ষক পেয়েছি। তাঁদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই।
১১ বছরে আমার যা অধিকারহরণ, অপবাদ, হক নষ্ট, আড়ালে কুরুচিপূর্ণ মিথ্যাচার হয়েছে তা করেছেন শিক্ষকরাই। তবে, তারা খুব লাজুক, ফলে আমার সামনে কখনও আমার কাজের বিরুদ্ধে কথা বলেন না বরং দেখা হলে হস্যোজ্জ্বল বদনে বিরাট প্রশংসা করেন। আমি তাদের অসহায়ত্ব দেখে কষ্ট পাই। পাশাপাশি এমন কিছু উদার, মানবিক, সত্যের প্রতি অবিচল শিক্ষক পেয়েছি- যাঁদের দেখলে শ্রদ্ধায় মাথা নিচু হয়ে যায়।
তবে, ১১ বছরে আমার পরম পাওয়া বলতে যদি কিছু থাকে, যদি আমি আমার চরম দুর্দিনে পথচলার অনুপ্রেরণা খুঁজি তাহলে তা আমার শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা!
তবুও এ কথা মাথায় আসে যে, আদর্শিক বিষয়ে, একাডেমিক বিষয়ে আমি কঠোর হলে যে শিক্ষার্থী কষ্ট পান কিংবা নিজের নাক কেটে যে সকল শিক্ষক আমার যাত্রা ভঙ্গ করার চেষ্টা করেন, আপনাদের জন্য আমি শিক্ষকতা করবো নাকি আত্মহত্যা করবো? উত্তর হলো- আদর্শিক এবং একাডেমিক বিষয়ে কঠোর থেকেই শিক্ষকতা চালিয়ে যাবো ইনশাআল্লাহ।
লেখক: শিক্ষক
(লেখকের ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত)
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম