মালয়েশিয়ায় ড. ইউনূসকে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার প্রদান

তিন দিনের সরকারি সফরে সোমবার সন্ধ্যায় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে লাল গালিচা দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। এ সময় তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
ড. ইউনূসের আগমনের সময় টার্মিনাল ১-এ আনুষ্ঠানিক আয়োজন করা হয়। কেএলআইএর বুংগা রায়া কমপ্লেক্সে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল তার সফরসঙ্গীদের সঙ্গে তাকে স্বাগত জানান। পরে রয়্যাল মালয় রেজিমেন্টের প্রথম ব্যাটালিয়নের ২৮ সদস্যের গার্ড অব অনার পরিদর্শন করেন তিনি, যার নেতৃত্ব দেন ক্যাপ্টেন মোহদ মাসরুর হিদায়াত মাসরি।
প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে ড. ইউনূস মালয়েশিয়া সফর করছেন। ২০২৪ সালের অক্টোবরে আনোয়ার ইব্রাহিমের বাংলাদেশ সফরের সময় তিনি তার দেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
মঙ্গলবার পারদানা পুত্রা কমপ্লেক্সে ড. ইউনূসকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হবে এবং প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রম, শিক্ষা, পর্যটন, প্রতিরক্ষা খাতসহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যু আলোচনা হবে।
সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, কৌশলগত ও আন্তর্জাতিক গবেষণা, সেমিকন্ডাক্টর উন্নয়ন এবং বাণিজ্য প্রসারের জন্য একাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হবে। এছাড়া কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে নোট বিনিময় করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী পারদানা কমপ্লেক্সে ড. ইউনূসের সম্মানে আনুষ্ঠানিক ভোজের আয়োজন করবেন। বুধবার তিনি একটি জনসভায় ভাষণ দেবেন এবং ইউনিভার্সিটি কেবাংসান মালয়েশিয়া (ইউকেএম) থেকে সামাজিক ব্যবসায় সম্মানসূচক ডক্টর অব ফিলোসফি ডিগ্রি লাভ করবেন। এছাড়া তিনি ইউকেএম ও ইউনূস সোশ্যাল বিজনেস সেন্টার কমিউনিটি ও বিশ্ববিদ্যালয় নেটওয়ার্কের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
২০২৪ সালে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৩.৩৫ বিলিয়ন রিঙ্গিত (২.৯২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার), যা ২০২৩ সালের তুলনায় ৫.১ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার ও রপ্তানি গন্তব্য। মালয়েশিয়ার প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য, পাম তেল ও রাসায়নিক দ্রব্য, আর বাংলাদেশ থেকে আমদানি হয় টেক্সটাইল, জুতা, পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য ও প্রস্তুত পণ্য।
উইসমা পুত্রা জানায়, এই সফর দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে এবং পারস্পরিক স্বার্থে সহযোগিতা বাড়াবে। যা ১৯৭২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর থেকে গড়ে ওঠা মজবুত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ