প্রকাশ: সোমবার, ১১ আগস্ট, ২০২৫, ৯:৫১ পিএম

পটুয়াখালীর বাউফলে দোকানে আগুন লাগানোর অভিযোগে অভি (১৪) ও শান্ত (১৫) নামে দুই কিশোরকে গাছের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্মমভাবে লাঠিপেটা করা হয়। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে নির্যাতনকারীদের গ্রেপ্তার না করে উল্টো ওই দুই কিশোরকেই আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। ঘটনাটি নিয়ে সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
শনিবার (৯ আগস্ট) রাতে উপজেলার বগীর খাল তুলাতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, একটি ছোট মুদি দোকানের মিটার ব্লাস্ট হয়ে আগুন লাগে, যদিও তাতে কোনো বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। এরপর দোকানদার মাহবুব ও তার সহযোগীরা অভি ও শান্তকে আগুন লাগানোর সন্দেহে আটক করে। মুহূর্তেই মব গড়ে উঠে এবং দুই কিশোরকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে লাঠিপেটা করা হয়। নির্যাতনের ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, কালাইয়া এলাকায় বিএনপির দুইটি গ্রুপের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। প্রায়ই সংঘর্ষ, হামলা ও মামলা হয়। রাজনৈতিক প্রতিশোধের অংশ হিসেবে ঘুরতে বের হওয়া দুই কিশোরকে টার্গেট করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, কিশোরদের মারধরের পাশাপাশি আগুন লাগানোর ‘স্বীকারোক্তি’ এবং বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষের নাম জোর করে উচ্চারণ করানো হচ্ছে।
এ ঘটনায় কালাইয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়কের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি টাকার বিনিময়ে কিশোরদের আগুন লাগাতে পাঠিয়েছেন- এমন ক্যাপশন দিয়েই নির্যাতনের ভিডিওটি ফেসবুকে প্রথম পোস্ট করেন ছাত্রদল কর্মী ফরহাদ রেজা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বাউফল থানার এসআই ইব্রাহীম মোল্লা ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্যাতনের শিকার দুই কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং তাদেরই থানায় নিয়ে আসেন। কোনো চিকিৎসা না দিয়েই প্রায় ২০ ঘণ্টা আটক রাখার পর রবিবার বেলা শেষে মুক্তি দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে এসআই ইব্রাহীম মোল্লা বলেন, ‘পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগে মারধরের ঘটনা ঘটে। প্রশাসন গিয়ে আটকে রাখা দুই জনকে নিয়ে আসে। আগুন লাগানোর অভিযোগে থানায় আনা হয়েছিল। হাসপাতালে নেওয়া হয়নি কারণ তারা বেশি আহত হয়নি, তবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আপোষ মীমাংসার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান হওয়ায় মামলা হয়নি।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম