প্রকাশ: রবিবার, ১০ আগস্ট, ২০২৫, ৭:২৫ পিএম

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ আগামী মাসে ফ্রান্সের সর্বশেষ সংবাদপত্র বিক্রেতা আলি আকবরকে দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা ‘অর্ডার অব মেরিট’ পদকে ভূষিত করবেন। মাখোঁর ব্যক্তিগত স্মৃতিও জড়িয়ে আছে তার সঙ্গে—ছাত্রজীবনে তিনি আলি আকবরের কাছ থেকেই সংবাদপত্র কিনতেন।
৭২ বছর বয়সী আলি আকবর প্যারিসের লেফট ব্যাংক এলাকায় টানা পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে হাতে খবরের কাগজ নিয়ে রাস্তায় হাঁটছেন, মুখে নতুন শিরোনামের ঘোষণা দিচ্ছেন।
১৯৭৩ সালে যখন তিনি এই কাজ শুরু করেন, প্যারিসে ছিল ৩৫-৪০ জন সংবাদপত্র ফেরিওয়ালা। এখন তিনি একাই আছেন—সম্ভবত ইউরোপেরও শেষ হকার।
ডিজিটাল যুগে পেশাটি দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। আগের মতো আর বিকেলবেলায় ঘণ্টাখানেকেই ৮০ কপি বিক্রি হয় না। এখন দিনে সর্বোচ্চ ৩০ কপি লে মোঁদ বিক্রির আশা করেন তিনি। বিক্রির অর্ধেক অর্থ নিজের কাছে রাখতে পারেন, তবে অবিক্রীত কাগজ ফেরত দেওয়ার সুযোগ নেই। আগে যেখানে ক্রেতারা তার চারপাশে ভিড় করত, এখন উল্টো তাকে ক্রেতাদের খুঁজে নিতে হয়।
তবুও তিনি এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন একটাই কারণে—স্বাধীনতা।
আলি আকবরের ভাষায়, “আমি পুরোপুরি স্বাধীনভাবে কাজ করি, কেউ আমাকে নির্দেশ দেয় না। সেই আনন্দেই এখনো করছি।”
প্যারিসের সাঁ-জেরমাঁ এলাকার মানুষ তাকে ভালোবাসেন। কেউ তাকে ভাইয়ের মতো মনে করেন, কেউ বলেন—তিনি সবার পরিচিত ও ভীষণ হাসিখুশি মানুষ।
পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে জন্ম নেওয়া আলি আকবর ষাটের দশকের শেষ দিকে ইউরোপে আসেন। প্রথমে আমস্টারডামে ক্রুজ জাহাজে কাজ পান, পরে ১৯৭২ সালে ফ্রান্সের রুয়ানে আসেন এবং এক বছর পর প্যারিসে স্থায়ী হন। আশির দশকে তিনি ফরাসি নাগরিকত্ব পান।
কর্মজীবনে তিনি বহু লেখক, শিল্পী ও রাজনীতিকের সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন। সায়েন্স-পো বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পত্রিকা বিক্রি করতে গিয়েই ভবিষ্যতের বহু রাজনীতিবিদের সঙ্গে দেখা হয়—যাদের একজন আজকের প্রেসিডেন্ট মাখোঁ। একবার ব্রাসেরি লিপে এলটন জন তাকে দুধ-চা খাওয়ান।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ