প্রকাশ: রবিবার, ১০ আগস্ট, ২০২৫, ৯:৪৮ AM আপডেট: ১০.০৮.২০২৫ ৯:৫৩ এএম

অ্যান্টার্কটিকার বরফঘেরা, প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে থাকা প্রজননরত চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইনদের জীবনে ঘুমের সংজ্ঞাই যেন আলাদা। বিজ্ঞানীরা এখন বলছেন, এই পাখিরা দিনে প্রায় ১০ হাজার বার ঘুমায়, আর প্রতিটি ঘুমের দৈর্ঘ্য মাত্র চার সেকেন্ড!
এই চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে বিশ্বখ্যাত Science জার্নালে প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক গবেষণায়। গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন পল-অ্যান্তোয়ান লিবুরেলসহ আরও কয়েকজন গবেষক, যারা পেঙ্গুইনদের মস্তিষ্কে ইলেক্ট্রোএনসেফালোগ্রাম (EEG) ব্যবহার করে সরাসরি ঘুমের মাত্রা ও ধরন পর্যবেক্ষণ করেছেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইনরা দিনে ১০ হাজার -এর বেশি মাইক্রো-স্লিপ বা স্বল্পকালীন ঘুম নেয়। প্রতিটি ঘুম গড়ে ৪ সেকেন্ড স্থায়ী হয়। কিন্তু অদ্ভুত হলেও সত্যি- এই ছোট ছোট ঘুম মিলিয়ে দিনে একেক মস্তিষ্ক-অর্ধে মোট ১১ ঘণ্টারও বেশি ঘুম জমা হয়!
এদের ঘুমের ধরন আরও চমকপ্রদ। বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন, পেঙ্গুইনরা কখনো দুই মস্তিষ্ক-অর্ধ একসাথে ঘুমায় (bihemispheric sleep), আবার কখনো শুধু এক পাশ ঘুমায়, অপর পাশ জেগে থাকে (unihemispheric slow-wave sleep)। এই ‘এক চোখ খোলা’ ঘুম তাদের সতর্ক থাকতে সহায়তা করে, বিশেষ করে ডিম ও বাচ্চার প্রতি হুমকি থাকলে।
এই ভাঙাচোরা ঘুমের মাঝেই তারা সফলভাবে বাচ্চা লালন-পালন করে চলেছে। ডিমের উপর বসে থেকেও ঘুমাচ্ছে, আবার যেকোনো সময় আক্রমণ এলে জেগে উঠছে- সবই সম্ভব হচ্ছে এই ক্ষুদ্র কিন্তু কার্যকর ঘুমের কৌশলের জন্য।
গবেষকদের মতে, এই গবেষণা ঘুম সম্পর্কে আমাদের দীর্ঘদিনের ধারণা বদলে দিতে পারে। এত স্বল্প সময়ের ঘুমও যদি শারীরবৃত্তীয় চাহিদা পূরণে যথেষ্ট হয়, তাহলে মানবঘুম ও অন্যান্য প্রাণীর ঘুম নিয়ে নতুনভাবে ভাবার দরকার রয়েছে। এটি ঘুমের নমনীয়তা এবং বিবর্তনীয় অভিযোজন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম